টেলবোনকে কক্কিক্স বলা হয়। এ কক্কিক্স সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি
রুডিমেন্টারি ভার্টিব্রা দিয়ে তৈরি হয়। এ কক্কিক্সে যে ব্যথা হয়, এ ব্যথাকে
বলা হয় ককিগোডায়না। ককিগোডায়না রোগে সাধারণ খুব কম সংখ্যক
লোক ভোগে। যারা এ রোগে ভোগে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা।
ককিগোডায়না হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে কক্কিক্সে আঘাত পাওয়া, হঠাৎ করে
কক্কিক্সের উপর পড়ে যাওয়া বা বসে পড়া, লিগামেন্ট ইনজুরি, কক্কিক্সের
আশেপাশের টিস্যু ইনজুরি হওয়া ও বাচ্চা প্রসবকালে কক্কিক্স ভেঙ্গে যাওয়া বা
ইনজুরি হওয়া। এছাড়াও কোথায় ইনজুরি হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে
প্রকারভেদ করা হয় যেমন: পোস্টেরিওর স্যাক্রোকক্কিজিয়াল লিগামেন্ট,
ইন্টারকক্কিজিয়াল লিগামেন্ট, অরিজিন অব গুটিয়াস ম্যাক্সিমাস মাসল (সাইড
অব দ্য স্যাকরাম), টিপ অব দ্য কক্কিক্স। অনেক সময় লোয়ার লাম্বার এবং
আপার স্যাকরাল ইনজুরি থেকে রেফার্ড পেইন কক্কিক্সে হয়। আমাদের সমাজের অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে বসে কাজ করি এবং তখন টেলবোনে ব্যথা অনুভব করি। এ পর্বের লেখা টেলবোন ব্যথার উপর।
অনেকেই দীর্ঘসময় টেলবোনের ব্যথায় ভুগে থাকলেও লজ্জা বা সংশয় নিয়ে
চিকিৎসা করেন না। ফলে দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কষ্টও বেড়ে যায়।
এরকমই একজন বিলকিছ খাতুন। বয়স ৩৫। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর যাবত
চাকরি করেন। তিনি তার কর্মজীবনে দীর্ঘসময় যেমন: ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বসে
কাজ করতেন। গত কয়েক বছর যাবত তিনি তার টেলবোনে ব্যথা অনুভব
করছেন। তিনি বসে থাকতে পারেন না এবং এ কষ্টের কারণে তিনি চাকরি
অফ দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি অনেক ব্যথার ওষুধ খেয়েছেন কিন্তু
কোনো উপকার পাননি।
টেলবোনের ব্যথার মেডিক্যাল ভাষা হলো ককসিডাইনা। উনিশ শতকের
মাঝামাঝি সময়ে ড. সিমসন এটি আবিষ্কার করেন। গ্রিক শব্দ ‘কুকু’ থেকে এ
শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ পাখির ঠোঁট, ডাইনা অর্থ ব্যথা।
টেলবোন বা কক্কিক্স ৩-৫টি বোনি সেগমেন্ট নিয়ে গঠিত যা মেরুদণ্ডের
শেষ প্রান্তে অবস্থিত। টেলবোনে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। যেমন:
সরাসরি আঘাত বা টেলবোনের উপর পড়ে যাওয়া, ভেঙ্গে যাওয়া,
ডিজলোকেশন, প্রেগন্যান্সি, দীর্ঘসময় বসে থাকা, শক্ত সারফেস ব্যবহার,
ডেস্কটপে চাকরি, ওবেসিটি।