শিরোনামঃ
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য আসামে দুই দিনে ১,১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ; গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়িঘর ও ১০ মসজিদ নতুন অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ চুরির দায়ে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে আপত্তি নেই, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: জামায়াত আমির রাজনীতিবিদদের রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান টোকিওতে ২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি বৈঠক বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

আসামে দুই দিনে ১,১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ; গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়িঘর ও ১০ মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের আসামে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে তিন জেলায় অন্তত ৬০০ হেক্টর বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিযানে মুসলিমদের বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ অভিযানে ১,১০০-এর বেশি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে।

শনিবার ও রোববার রাজ্যের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টির বেশি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বনভূমি দখল করে এসব পরিবার বসতি গড়েছিল বলে দাবি করেছে প্রশাসন। স্ক্রল-কে এ কথা জানিয়েছেন বন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) আসামের তিন জেলায় ৫০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-কে জানিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোট ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, গোলাঘাটে ৫৯টি এবং হোজাইয়ে ১৫২টি পরিবার রয়েছে। উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

কর্মকর্তারা জানান, রোববার অন্যতম বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযানে নগাঁও জেলার লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় মোট ৫৬৩টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।

লুটুমারির বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূর বলেন, ‘১৯৭৪ সালে সরকার আমাদের এখানে পুনর্বাসন করেছিল। আমরা মূলত কাছের জুরিয়া শহরের বাসিন্দা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন বলে সরকার আমাদের এখানে পুনর্বাসন করেছিল। সব মিলিয়ে ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আমরা গৌহাটি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আদালত আমাদের কোনো প্রতিকার দেননি।’

নূর জানান, ৫০ বছরের বেশি পুরোনো কয়েকটি মসজিদসহ ১০টিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বন বিভাগে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। এ কারণেই অনেককে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল।’

বন বিভাগ আগস্টে উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে মাইকিং করে ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর প্রায় ৯০ শতাংশ দখলদার নিজেরাই এলাকা ছেড়ে চলে যান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন এক কর্মকর্তা।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ওই এলাকার মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএমএসইউ)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, রোববারের উচ্ছেদ অভিযানে পাঁচটি মসজিদসহ প্রায় ১ হাজার ৬৬৯টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এএএমএসইউর সভাপতি এমডি ইমতিয়াজ হুসেইন জানিয়েছেন, লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদের মুখে পড়া ৫০০-এর বেশি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩০০টি পরিবারকে ১৯৭৩ সালে সরকার সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। ওই ৩০০ পরিবারের মধ্যে ১৭৭টি ছিল মুসলিম পরিবার।

ইমতিয়াজ বলেন, ‘বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদের বিষয়ে ২০ জুলাইয়ের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তবে আমরা বলতে চাই, রোববার ১৭৭টি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, অথচ অমুসলিমদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদপ্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তাদের এখনো কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে ৩০০টি পরিবারকে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিল।


এ জাতীয় আরো খবর...