শিরোনামঃ
জেলা পর্যায়ে এনআইসিইউর অভাব, ঢাকায় এসেও শয্যার জন্য হাহাকার ইউরোপের রাজপথে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নীতিচাপ: ত্রিমুখী সংকটে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত নীতি প্রণয়নে নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্যের অপরিহার্যতা মাথাব্যথার আধুনিক চিকিৎসা ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে? ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার, আহত ১ লাখ ৭৬ হাজার ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক আগামীকাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশি ওষুধ যাচ্ছে দেড়’শরও বেশি দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতে সবচেয়ে নীরব অথচ চমকপ্রদ বিপ্লব ঘটেছে ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ উৎপাদন শিল্পে। একসময় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় আটানব্বই শতাংশ পূরণ করছে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা রোগ নিরাময়ের এই অনুষঙ্গ এখন বিশ্বদরবারে এক নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের ভৌগোলিক বিস্তার ঘটেছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। বর্তমানে বিশ্বের একশত বাষট্টিটি দেশের ফার্মেসিতে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ওষুধ। আন্তর্জাতিক মান রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং দক্ষ ফার্মাসিস্টদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার মেলবন্ধনে বিগত পাঁচ বছরে দেশের সামগ্রিক ওষুধ রপ্তানি আয় কার্যত দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ও রাজস্বের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে এই সম্ভাবনাময় খাতের প্রবৃদ্ধির চিত্রটি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিশ্ববাজারে সর্বমোট এক হাজার সাতশত তিয়াত্তর কোটি ছিয়ানব্বই লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি করেছিল, সেখানে পরবর্তী বছরগুলোতে এই ধারা ছিল অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ধারাবাহিক সেই ধারাবাহিকতায় সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি আয় পৌঁছেছে তিন হাজার দুইশত পঞ্চাশ কোটি সতেরো লাখ টাকায়। দেশীয় ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তা ও বাণিজ্য গবেষকদের প্রত্যাশা, এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানির মোট অর্থমূল্য একশত কোটি মার্কিন ডলার বা এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে। তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখীকরণের যে জাতীয় তাগিদ রয়েছে, তাতে এই খাতটিই এখন সবচেয়ে বড় নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতের জন্য তালিকাভুক্ত তিনশত তেইশটি কারখানার মধ্যে দুইশত একান্নটি ইউনিট পুরোদমে সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছে। এর বাইরেও প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক ধারার আরও পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় উৎপাদন ইউনিট দেশে কার্যকর রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানসম্মত ওষুধ পাঠিয়ে দেশের জন্য সুনাম ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রপ্তানি তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে চারশত তিন কোটি ছিয়াত্তর লাখ টাকায়। অতি সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ, যাদের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ চারশত এক কোটি পঁচাশি লাখ টাকা। শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে তিনশত বাহাত্তর কোটি টাকার পণ্য পাঠিয়ে অবস্থান ধরে রেখেছে নিপ্রো জেএমআই। এছাড়া চতুর্থ অবস্থানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস তিনশত সতেরো কোটি সাতষট্টি লাখ টাকা এবং পঞ্চম স্থানে থাকা রেনাটা লিমিটেড দুইশত সাতান্ন কোটি তিপ্পান্ন লাখ টাকার ওষুধ আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠিয়েছে। শীর্ষস্থানীয় এই পাঁচটি ছাড়াও এরিস্টোফার্মা, এসকেএফ, বীকন, হেলথকেয়ার এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করে তুলছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের এই অবাধ বিস্তৃতির পথটি অবশ্য কেবল সাধারণ বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন, সেসব উন্নত দেশের বাজারেও ইতিমধ্যে বাংলাদেশের একাধিক কারখানার তৈরি ওষুধ প্রবেশাধিকার পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিমত, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং জটিল ও উচ্চমূল্যের ওষুধ তৈরির সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে। ডায়াবেটিস, ক্যানসার কিংবা অটোইমিউন রোগের মতো জটিল ব্যাধির বায়োসিমিলার ও বায়োটেক ওষুধের বাজার বর্তমানে সারাবিশ্বে দ্রুত বাড়ছে, যেখানে বাংলাদেশকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব পরীক্ষাগার তৈরি এবং বিদেশে ওষুধ নিবন্ধনের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া মোকাবিলা করাও দেশীয় শিল্পমালিকদের জন্য এক বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের বর্তমান এই সাফল্যের অন্যতম একটি বড় চাবিকাঠি ছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস বা মেধাস্বত্ব চুক্তির আওতায় পাওয়া বিশেষ ছাড়। স্বল্পোন্নত বা এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করা যেকোনো ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ কোনো ধরনের রয়্যালটি ফি ছাড়াই তৈরি ও বিক্রি করার সুবিধা পেয়ে এসেছে। তবে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণ এই সুবিধায় বড় ধরনের ছেদ ঘটাতে পারে। উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হওয়ার পর ট্রিপস সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে পেটেন্টকৃত নতুন ওষুধ উৎপাদনে বিধিনিষেধ নেমে আসবে। তাই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ওষুধ প্রযুক্তিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, পরনির্ভরশীল ছাড়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো শিল্প চিরকাল বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশ, কাঁচামাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং মৌলিক গবেষণায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির একাধিক সমীক্ষায়ও এই খাতের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে কাঁচামালের অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভরতা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে অপর্যাপ্ত অর্থায়নের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সৈয়দ সাব্বির হায়দার অভিমত ব্যক্ত করে জানান, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বাজারভিত্তিক নিবিড় গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ও স্বীকৃত বায়ো-ইকুইভ্যালেন্স বা জৈবসমতুল্যতা পরীক্ষার সুবিধার ক্ষেত্রে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে এখনো বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একটি নতুন ওষুধ মানবদেহে মূল পেটেন্টকৃত ওষুধের সমান কার্যকারিতা দেখাচ্ছে কি না, তা আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায় এবং সময়ক্ষেপণ হয়। দেশে যদি বিশ্বমানের ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তবে এই খাতের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ হ্রাস পাবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ আরও সহজতর হবে। একই সঙ্গে তিনি ওষুধ রপ্তানি খাতে সরকারের প্রদত্ত আর্থিক প্রণোদনার সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

আন্তর্জাতিক ওষুধ বাণিজ্যের পরিভাষায় পিআইসি/এস এবং রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড বা আরওডব্লিউ শব্দ দুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পিআইসি/এস মূলত ওষুধের উন্নত উৎপাদন মান এবং আন্তর্জাতিক কারখানার পরিদর্শন ব্যবস্থার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ এবং সিঙ্গাপুরের এইচএসএর মতো শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে আরওডব্লিউ বলতে বিশ্বের প্রধান প্রধান উন্নত বাজারের বাইরে এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল বাজারগুলোকে বোঝানো হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে এই আরওডব্লিউভুক্ত দেশগুলো থেকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার পিআইসি/এস মানদণ্ড অনুসরণকারী বাজারে বাংলাদেশের কিছু কারখানা জায়গা করে নিতে পেরেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিয়মনীতি মেনে ওষুধ বাজারজাত করার যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, তা সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তুলনামূলক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের শর্তাবলি এখনও অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। অন্যদিকে ব্রাজিলের মতো উদীয়মান অর্থনীতির বিশাল বাজারেও বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশের বিরাট সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতৃবৃন্দ এই খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সমিতির মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, কাঁচামাল আমদানির পেছনে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, বিশ্ববাজারে ওষুধ বিক্রির মাধ্যমে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। তৈরি পোশাক শিল্প যেভাবে দেশের প্রধান রপ্তানি চালিকাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে, ওষুধ খাতকেও সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। তবে বিভিন্ন দেশে একেকটি ওষুধ ও কারখানার নিবন্ধন পেতে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও ফি গুনতে হয়, তা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন ব্যয় ও বার্ষিক নিরীক্ষা ফির ওপর সরাসরি ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে পণ্য গবেষণার জন্য বিশেষ তহবিল বা সফট লোনের দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠলেও নীতিগত জটিলতার কারণে রপ্তানির পূর্ণ গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পণ্যের যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ওষুধের প্রসার দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।

সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নানা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শর্তাবলি পূরণ করতে ওষুধ নিবন্ধন ও কারখানার পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ও দ্রুতগতির করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন বা টিকা রপ্তানির বড় ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ম্যাচুরিটি লেভেল-৩’ অর্জনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই বৈশ্বিক সনদটি অর্জিত হলে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল, অনুমোদন, কারখানা পরিদর্শন এবং বাজারজাত-পরবর্তী তদারকির সক্ষমতায় বাংলাদেশ বিশ্বমানের স্বীকৃতি পাবে। এর ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ভ্যাকসিন বিক্রির দুয়ার উন্মোচিত হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৫ সালে নামমাত্র চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ রপ্তানির গোড়াপত্তন হয়েছিল। চার দশকের ব্যবধানে আজ দেশের অভ্যন্তরীণ ওষুধের বাজারই প্রায় সাঁইত্রিশ হাজার কোটি টাকার এক দানবীয় কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। প্রায় শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও এই শিল্পের পেছনের অন্ধকার দিকটি হলো কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টসের ক্ষেত্রে প্রায় পঁচাশি শতাংশ আমদানিনির্ভরতা। ১৯৮৮ সালে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস দেশে প্রথমবারের মতো কাঁচামাল উৎপাদনের ঐতিহাসিক সূচনা করলেও পরবর্তী চার দশকে এই মৌলিক জায়গায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্থাপিত এপিআই বা কাঁচামাল শিল্প পার্কটি বছরের পর বছর ধরে পুরোপুরি সচল না হওয়ায় এই ঘাটতি থেকেই গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে দেড় শতাধিক দেশে তৈরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার গৌরব অর্জনের পাশাপাশি, কাঁচামালের পরনির্ভরশীলতা ঘুচিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সবচেয়ে বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...