সারা দেশে নবজাতক ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা সেবায় বিরাজ করছে এক চরম সংকট ও হাহাকার। প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন প্রাণের আগমন ঘটলেও সংকটাপন্ন শিশুদের জীবন বাঁচাতে জরুরি যে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউর প্রয়োজন হয়, মফস্বল কিংবা জেলা পর্যায়ে তার ন্যূননতম ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। ফলে উপজেলা, জেলা এমনকি বিভাগীয় শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন স্বজনরা। শেষ ভরসা হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুমূর্ষু শিশুদের কোলে নিয়ে অভিভাবকরা ছুটছেন রাজধানী ঢাকার দিকে। কিন্তু ঢাকায় এসেও মিলছে না স্বস্তি; বরং সীমিত শয্যার কারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটির মধ্যেই অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি এবং যথাসময়ে নিবিড় চিকিৎসার অভাবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অনেক নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এক করুণ ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দশ হাজার শিশুর জন্ম হয়। এত বিপুলসংখ্যক নবজাতকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। এদের মধ্যে অনেকেরই প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত ইনটেনসিভ কেয়ারের সেবা। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া অপরিণত শিশু, জটিল গর্ভাবস্থার পর জন্ম নেওয়া দুর্বল নবজাতক, জন্মের পরপরই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা, মস্তিষ্কে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি, মারাত্মক রক্ত সংক্রমণ কিংবা খিঁচুনির মতো জীবনঘাতী জটিলতায় আক্রান্তদের জন্য জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির সহায়তা ছাড়া বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু রাজধানী বাদে দেশের অন্য কোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই অত্যাধুনিক সেবা প্রায় অস্তিত্বহীন। ফলে জন্মলগ্নেই বাঁচার লড়াইয়ে নামা এই নিষ্পাপ শিশুদের ভাগ্যে জোটে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথযাত্রার অনিশ্চয়তা।
রাজধানীর শীর্ষ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর চিত্রও অত্যন্ত হতাশাজনক ও সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসালয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউ ইউনিটে সারা দেশের মুমূর্ষু শিশুদের জন্য শয্যা বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩৮টি। অন্যদিকে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রধান জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এনআইসিইউর জন্য শয্যা রয়েছে মাত্র ১৬ থেকে ১৮টির মতো, যা সারাবছরই শতভাগ পূর্ণ থাকে। এই দুটি প্রধান প্রতিষ্ঠানে শয্যা খালি পাওয়ার কোনো সুযোগই থাকে না বললেই চলে। প্রতিদিন যে পরিমাণ সংকটাপন্ন নবজাতক চিকিৎসার জন্য রেফার হয়ে আসে, বিদ্যমান শয্যাসক্ষমতা তার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য অভিভাবককে চোখের জল ফেলতে ফেলতে ফিরে যেতে হচ্ছে অথবা বিকল্প কোনো ব্যবস্থার খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটতে হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, তাঁদের নিয়মিত ভর্তি সক্ষমতার তুলনায় প্রতিদিন কয়েক গুণ বেশি সংকটাপন্ন নবজাতককে নিয়ে আসা হয়। এর পাশাপাশি এই হাসপাতালে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার নারীদের বিপুল সংখ্যায় প্রসব করানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই এখানে জন্ম নেওয়া বহু শিশুরই জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এনআইসিইউ সেবার অপরিহার্য প্রয়োজন দেখা দেয়। একদিকে হাসপাতালের ভেতরে প্রসব হওয়া জটিল নবজাতক এবং অন্যদিকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে রেফার হয়ে আসা সংকটাপন্ন শিশু—এই দ্বিমুখী বিশাল চাপের কারণে এখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বক্ষণিক হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করার পরও কেবল শয্যার অভাবে অনেক সংকটাপন্ন শিশুকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
নবজাতকদের পাশাপাশি একটু বয়স্ক কিন্তু মারাত্মক রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্যও সরকারি পর্যায়ে নিবিড় পরিচর্যা বা পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট সংক্ষেপে পিআইসিইউর ভয়াবহ সংকট রয়েছে। হাম, তীব্র নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে পিআইসিইউ সুবিধা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে এই ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট না থাকায় সাধারণ পরিবারের দুর্ভোগ অবর্ণনীয় রূপ নেয়। সম্প্রতি ফরিদপুরের পশ্চিম চরচাঁদপুর গ্রামের সাধারণ কৃষক সাগর শেখের যমজ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে এই নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। হাম ও মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশু দুটি জীবনসংকটে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে তাদের রাখার কোনো সুযোগ ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে প্রায় একশত কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় আসেন বাবা। কিন্তু ঢাকার কোনো সরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ শয্যা খালি না পেয়ে বাধ্য হয়ে একটি ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে তাদের ভর্তি করান তিনি। বর্তমানে তাঁর একটি সন্তান সম্পূর্ণ লাইফ সাপোর্টে এবং অপর সন্তানটি পিআইসিইউতে লড়ছে, যা একটি দরিদ্র পরিবারের ওপর চরম আর্থিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো মুমূর্ষু নবজাতক বা শিশুকে দূরবর্তী জেলা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াটি নিজেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল। একটি সংকটাপন্ন শিশুকে নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ সমৃদ্ধ বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, দক্ষ প্যারামেডিক এবং ভ্রাম্যমাণ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। অথচ আমাদের দেশে অ্যাম্বুলেন্সে এসব সুযোগ-সুবিধা প্রায় থাকেই না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাঙাচোরা সড়ক ও তীব্র যানজট পেরিয়ে ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা শারীরিক তাপমাত্রা কমে গিয়ে নবজাতকের অবস্থা অপরিবর্তনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে কিংবা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় অ্যাম্বুলেন্সেই নিভে যায় শিশুর প্রাণপ্রদীপ। বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, ঢাকাকেন্দ্রিক শয্যা বাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কখনোই সম্ভব নয়; প্রতিটি বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা হাসপাতালে সম্পূর্ণ কার্যকরী এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা কেবল কিছু শয্যা বা আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি কার্যকর এনআইসিইউ পরিচালনা করতে প্রয়োজন উচ্চপ্রশিক্ষিত পেডিয়াট্রিক ও নিওনেটাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ নার্স, নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা। নবজাতকের শারীরিক পরিবর্তন প্রতি মিনিটে পরিবর্তিত হয়, ফলে চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ইউনিট চালানো অর্থহীন। প্রশিক্ষিত জনবল এবং নিয়মিত টেকনিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না করে জেলা পর্যায়ে কেবল লোকদেখানো অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতি ফেলে রাখলে তা রোগীদের কোনো উপকারে আসবে না। অতীতে বহু জেলায় আইসিইউ যন্ত্রপাতি কেনা হলেও টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসকের অভাবে সেগুলো প্যাকেটবন্দী হয়ে নষ্ট হওয়ার নজির রয়েছে, যা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের অপর জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুর রউফ এই সংকট প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে জটিল রোগীদের এই হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা রয়েছে, কিন্তু তাদের শয্যাসংখ্যা একেবারেই অপর্যাপ্ত। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শয্যাস্বল্পতা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এই জাতীয় সমস্যার সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করা না গেলে নবজাতকদের শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এনআইসিইউ ইউনিটের শয্যা বাড়ানোর কোনো বাস্তব পরিকল্পনা তাঁদের হাতে নেই।
দেশের শিশুদের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটেও একই রকম সংকীর্ণতা বিরাজ করছে। হাসপাতালটির উপপরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে এনআইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১৬টি, যা কোনো দিন বা কোনো মুহূর্তের জন্য খালি পাওয়া যায় না। সারা দেশ থেকে প্রতিদিন যত জটিল শিশুকে আনা হয়, তাঁদের মাত্র ক্ষুদ্র একটি ভগ্নাংশকে এই সীমিত শয্যায় ভর্তি করা সম্ভব হয়। বাকিদের নিরুপায় হয়ে ফিরিয়ে দিতে হয়। তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে জানান যে, শিশু হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৭ শতাধিক শয্যা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই হাজারে উন্নীত করার একটি বৃহৎ মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেখানে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ শয্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব হবে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নবজাতক ও শিশুদের বিশেষায়িত শয্যার জন্য প্রতিদিন শত শত রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে দেখা যায়।
সরকারি ব্যবস্থায় শয্যা না পাওয়ার এই নিদারুণ বাস্তবতা সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এক ভয়ংকর আর্থিক ফাঁদে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এনআইসিইউর দৈনিক শয্যা ও চিকিৎসাসেবা বাবদ খরচ পড়ে মাত্র দুইশত থেকে ছয়শত টাকার মতো, যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে ঠাঁই না পেয়ে যখন একজন অভিভাবক তাঁর মুমূর্ষু সন্তানকে বাঁচাতে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, তখন প্রতিদিনের ব্যয় দাঁড়িয়ে যায় দশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার টাকা পর্যন্ত। ওষুধপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিলিয়ে এই খরচ অনেক সময় দিনে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে দুই-তিন দিনও এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। ফলে সহায়-সম্বল, জমিজমা বিক্রি করে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়েও বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে এবং একপর্যায়ে ব্যয় মেটাতে না পেরে লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
সার্বিক সংকট উত্তরণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জোর দাবি, সরকারকে দ্রুত সারা দেশে নবজাতক ও শিশু নিবিড় পরিচর্যার একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার ও কেন্দ্রীয় রেফারাল ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। কোন সরকারি বা অনুমোদিত হাসপাতালে কয়টি শয্যা খালি রয়েছে, তা যেন একটি কেন্দ্রীয় হটলাইন বা অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন। এতে রোগীর স্বজনদের অন্ধের মতো ঢাকায় এসে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ শয্যার সুসজ্জিত এনআইসিইউ ইউনিট স্থাপন করে সেখানে পর্যাপ্ত এনেস্থেসিওলজিস্ট, নিওনেটোলজিস্ট ও নার্স পদায়ন করতে হবে।
জেলা পর্যায়ে নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার ফওজিয়া তাসনিম জানিয়েছেন যে, সরকার তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের যে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে, তার সাথে নবজাতকদের জন্য এনআইসিইউ সুবিধাও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে কেবল ঘর তৈরি করলেই বিশেষায়িত সেবা চালু করা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ জনবল ও বিশেষায়িত টেকনোলজিস্ট। সরকার এই সমস্ত জটিলতা বিবেচনায় রেখেই একটি স্থায়ী ও বাস্তবমুখী কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং নবজাতকের অকাল মৃত্যু রোধ করতে হলে এই পরিকল্পনা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের নিবিড় চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসাই এখন সবচেয়ে জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা