সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

চোরাই ব্যাটারির রমরমা বাজার: সাত বছরে চারশো’র বেশী অটোরিকশা চালক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

শহুরে অন্ধকারের ভেতর জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা শ্রমজীবী মানুষের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। রাতের নির্জনতায় যে যানটি একজন চালকের জন্য ছিল পরিবারের দুবেলা অন্ন জোগাড়ের একমাত্র অবলম্বন, সেই যানটিই আজ তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিগত ২০২০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছিনতাইকারীদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০৪ জন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক। কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে এই বিশেষ ঘরানার হত্যাকাণ্ডের কোনো সমন্বিত পরিসংখ্যান সংরক্ষিত না থাকলেও অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে এই লোমহর্ষক বাস্তবতার কথা জানা গেছে। মাঠপর্যায়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবে এই মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক নিখোঁজ বা অজ্ঞাত লাশের নেপথ্য কারণ আজও অন্ধকারে ঢাকা পড়ে আছে।

বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, রিকশাচালক হত্যার এই রক্তক্ষয়ী ধারাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি অত্যন্ত নিয়মিত ও ধারাবাহিক এক অপরাধ। ২০২০ সালে সারা দেশে ৬২ জন চালক ছিনতাইকারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই নৃশংসতা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায় এবং এক বছরেই ৬৪ জন শ্রমজীবী মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় ঘাতক চক্র। এরপর ২০২২ সালে ৫১ জন, ২০২৩ সালে ৫৮ জন, ২০২৪ সালে ৬০ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৭ জন চালক তাদের যানের জন্য খুন হন। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসেই এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ৫২ জন চালক। প্রতি বছর গড়ে অর্ধশতাধিক তরতাজা প্রাণের এই মর্মান্তিক অবসান প্রমাণ করে যে, মহাসড়ক ও গলিপথে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে কেন্দ্র করে এক ভয়ংকর অপরাধচক্র বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে তাদের জাল বিস্তার করে রেখেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করলে এই হত্যাকাণ্ডের এক নির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত কার্যপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘাতকরা সাধারণত মধ্যরাত কিংবা শেষ রাতের নির্জনতাকে বেছে নেয়। তারা সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে সুবিধাজনক স্থানে যাওয়ার কথা বলে রিকশা ভাড়া করে। এরপর চালককে কৌশলে ফাঁকা বা নিরিবিলি কোনো রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছামাত্র চালককে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে অথবা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়। লাশটি ঝোপঝাড়, ড্রেন কিংবা নদীতে ফেলে দিয়ে ঘাতকরা নির্বিঘ্নে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে মিরাজ হোসেন ও স্বপন ইসলাম নামের দুই চালককে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তৎকালীন ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেখানে ছয় থেকে সাতজনের একটি সংঘবদ্ধ দল গভীর রাতে যাত্রী সেজে চালকদের গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করত এবং মুহূর্তেই গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেত।

ছিনতাই করা এই যানবাহনগুলোর জন্য সারা দেশেই এক ধরনের গোপন ও নিরাপদ বাজার গড়ে উঠেছে, যা এই রক্তক্ষয়ী অপরাধকে প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে। ডেমরায় গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, একটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে ছিনতাই করা আস্ত একটি রিকশা তারা মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো অবিশ্বাস্য কম দামে বিক্রি করে দিত। ডেমরার মালা মার্কেটের একটি গ্যারেজের মালিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, যার কারখানায় ছিনতাই করা রিকশা প্রবেশের মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে সেটির রঙ ও বাহ্যিক অবয়ব সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হতো, যাতে রাস্তায় নামালে মূল মালিকও তা আর শনাক্ত করতে না পারেন। চোরাই রিকশার এই রমরমা বাণিজ্যের আরেকটি মর্মান্তিক নজির দেখা গেছে চলতি বছরের আগস্টে গাজীপুরের কাপাসিয়ার মীর্জানগরে। সেখানে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ চালক আতাউর রহমানকে হত্যার পর পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে তার শেষ সম্বল রিকশাটি মাত্র ৪২ হাজার টাকায় অন্য এক চক্রের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

ভৌগোলিক বিন্যাসের দিক থেকে চালক হত্যার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এককভাবে ঢাকা জেলাতেই নিহত হয়েছেন ৪৭ জন চালক। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ভেতরে ২৬ জন এবং মহানগরের বাইরে সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জের মতো নির্জন এলাকায় ২১ জন চালককে হত্যা করা হয়। রাজধানীর পল্লবী, ডেমরা, সবুজবাগ, গেন্ডারিয়া ও বাড্ডা অঞ্চল ছিনতাইকারীদের প্রধান বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকার লাগোয়া জেলা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে যথাক্রমে ২৪ জন করে চালক খুন হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে আটজন এবং নরসিংদীতে সাতজন চালকের প্রাণ গেছে। অর্থাৎ কেবল বৃহত্তর ঢাকা ও তার আশপাশের পাঁচটি জেলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জন রিকশাচালক। ঢাকার বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহে, যেখানে ২৫ জন চালককে হত্যা করা হয়। এছাড়া বগুড়ায় ১৮, দিনাজপুরে ১৩, সিরাজগঞ্জে ১২ এবং চট্টগ্রাম ও কিশোরগঞ্জে ১১ জন করে চালক খুন হয়েছেন। কুমিল্লা, পাবনা, ফরিদপুর ও যশোরে নিহতের সংখ্যা দশজন করে। তবে দেশের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়, রাঙামাটি ও শরীয়তপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে চালক হত্যার কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

সাভারের বংশী নদী থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে হুমায়ুন কবির নামের এক অটোরিকশাচালকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এক আন্তঃজেলা চক্রের সন্ধান পায়। তদন্তে উঠে আসে, ওই নির্দিষ্ট চক্রটিই বিগত দুই বছরে ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর অঞ্চলে অন্তত সাতজন চালককে হত্যা করে তাদের রিকশা ছিনতাই করেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা শতাধিক রিকশা ছিনতাই করে মিরপুরের বাউনিয়াবাদের পাঁচটি নির্দিষ্ট গ্যারেজে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে আসছিল। নদী পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, রাজধানীতে ছিনতাই হওয়া রিকশা ও তার ব্যাটারি অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে নগদে বিক্রি করে ফেলা যায় বলেই অপরাধীরা নিরীহ চালকদের বারবার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে, অনেক সময় ছিনতাই হওয়া পুরো রিকশাটি বিক্রি করা হয় না। অপরাধীরা দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির দামি ব্যাটারি ও মোটর খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দেয়। রাজধানী ও তার উপকণ্ঠে ব্যবহৃত ব্যাটারির এক বিশাল সমান্তরাল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। কেরানীগঞ্জ, সাভার, মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, গেন্ডারিয়া, সবুজবাগ, মুগদা, বংশাল ও দয়াগঞ্জের মতো পুরোনো যন্ত্রাংশের বাজারে জেলা পর্যায় থেকে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিগুলো এনে অবাধে বিক্রি করা হয়। তাছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ব্যাটারিচালিত যানের কারখানা ও খুচরা যন্ত্রাংশের অবাধ বাজার থাকায় অপরাধীদের জন্য চোরাই পণ্য লেনদেন করা কোনো জটিল বিষয় থাকে না।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই বিগত কয়েক বছরে চালক হত্যার শতাধিক মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। পিবিআই কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো অপরাধীদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ‘তরল অর্থ’ বা নগদ টাকার মতো। এর মূল কারণ হলো এই বাহনগুলোর কোনো ধরনের সরকারি নিবন্ধন, বিআরটিএ সনদ বা প্রাতিষ্ঠানিক নম্বরপ্লেট থাকে না। ফলে রাস্তায় যে এই গাড়ির হাতলে হাত রাখে, বাস্তবে সে-ই তার তাৎক্ষণিক মালিক বনে যায়। কোনো নম্বর না থাকায় দূরবর্তী কোনো এলাকায় নিয়ে এটি অনায়াসে চালিয়ে ফেলা যায় অথবা টুকরো টুকরো করে যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেওয়া যায়। কোনো লাইসেন্স ও তদারকি না থাকায় অবৈধ গ্যারেজ মালিকদের সহায়তা নিয়ে ছিনতাইকারীরা এই অপরাধকে নিজেদের নিয়মিত ব্যবসায় পরিণত করেছে।

এই চরম নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে পিবিআই প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল মনে করেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই খাতকে অবিলম্বে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ব্যাটারিচালিত রিকশা যদি রাস্তায় চলতেই হয়, তবে একটি সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত নকশা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি যানের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, দৃশ্যমান নম্বরপ্লেট এবং চালকদের জন্য বৈধ ড্রাইভিং পারমিট চালু করতে হবে। একই সঙ্গে এই খাতের সঙ্গে যেহেতু লাখ লাখ মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে গেছে, তাই হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্তের বদলে যন্ত্রাংশের সরবরাহ এবং কারখানাগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে সুশৃঙ্খল নিয়মকানুন প্রয়োগ করতে হবে।

অপরাধবিজ্ঞানীরা অবশ্য মনে করেন যে, কেবল ব্যক্তিপর্যায়ের খুনের ঘটনার তদন্ত করে এই রক্তক্ষয়ী অপরাধের স্থায়ী সমাধান আসবে না। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুকের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে এই নির্দিষ্ট অপরাধ দমনে কোনো সমন্বিত ও কৌশলগত কাঠামোর চরম অভাব রয়েছে। কেবল ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না; চোরাই ব্যাটারি কারা কিনছে, নেপথ্যে থেকে কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে এবং অবৈধ গ্যারেজগুলোতে কীভাবে রাতের আঁধারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেই অর্থলগ্নিকারীদের মূল উৎপাটন করতে হবে। একই সাথে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পটগুলোতে টহল বাড়ানো অপরিহার্য।

একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা হারিয়ে যাওয়া মানে কেবল একটি যান্ত্রিক কাঠামোর ক্ষতি নয়, বরং একটি প্রান্তিক পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বলটুকু চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া। আর যখন সেই গাড়ির সঙ্গে চালকের প্রাণটিও কেড়ে নেওয়া হয়, তখন সেই পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। সাভারে নিহত হুমায়ুন কবিরের ঘটনাটি এর এক নির্মম দলিল। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কেনা রিকশাটি নিয়ে রাস্তায় নামার এক মাসের মাথায় তাকে লাশ হতে হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো পথ না পেয়ে স্ত্রী গোলাপী বেগম এখন একটি পোশাক কারখানায় অমানুষিক পরিশ্রমে নেমেছেন, যেখানকার সামান্য আয়ে তাকে সংসার চালানোর পাশাপাশি শোধ করতে হচ্ছে স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণের কিস্তি। দেশের বিভিন্ন মর্গে পড়ে থাকা এই ৪০৪ জন চালকের নিথর দেহ মূলত ৪০৪টি অসহায় পরিবারের সীমাহীন কান্নার প্রতিচ্ছবি। চার চাকার আধুনিক নগরীতে তিন চাকার এই যানগুলোর ওপর কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনি নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে, অভাবী মানুষের এই রক্তের দাগ রাজপথ থেকে কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।

তথ্যসূত্র: নিউএজ


এ জাতীয় আরো খবর...