দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শিল্পায়ন ও সেবা খাতের বিস্তার ঘটলেও শিক্ষিত তরুণদের জন্য মানসম্মত ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে | বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার পরও বছরের পর বছর প্রথম শ্রেণির চাকরির পেছনে ছুটে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক যুবসমাজকে | প্রচলিত শ্রমবাজার যখন এই বিপুল মানবসম্পদকে ধারণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ দেশের তরুণদের সামনে খুলে দিয়েছে বিকল্প উপার্জনের এক নতুন জানালা | স্থায়ী নিয়োগপত্র, ভবিষ্যৎ তহবিল কিংবা বার্ষিক ছুটির নিশ্চয়তা না থাকলেও স্বাধীন কাজের সুযোগ ও তাৎক্ষণিক আয়ের আশায় লাখ লাখ শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণ এখন ভিড় জমাচ্ছেন ‘গিগ’ কাজের জগতে | নির্দিষ্ট প্রকল্প, খণ্ডকালীন চুক্তি কিংবা ডিজিটাল অ্যাপভিত্তিক অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল এই অপ্রচলিত কর্মক্ষেত্রটি আজ কেবল বেকারের সংখ্যা কমাতেই ভূমিকা রাখছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এক নীরব বিপ্লব সাধন করে চলেছে|
পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, বিগত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ নতুন কর্মক্ষম তরুণ প্রবেশ করলেও তাদের মধ্যে মাত্র সাতাশি লাখের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে | ফলস্বরূপ বাকি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে বেছে নিতে হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক বা স্বনিয়োজিত কোনো না কোনো পেশা | আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার চরম উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে | দেশের বিদ্যাপীঠগুলো থেকে অর্জিত সনাতন শিক্ষার সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক ও কর্পোরেট বাজারের চাহিদার বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় হাজারো স্নাতকধারীর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মহীন হয়ে বসে থাকছেন | এই পরিস্থিতির বাস্তব শিকার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেই চাকরির পেছনে কালক্ষেপণ না করে কনটেন্ট তৈরির মতো আধুনিক গিগ পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন | একইভাবে পরিবারের অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে চট্টগ্রামের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মিরাজ হাসানের মতো অনেকেই নিজেদের মোটরসাইকেল নিয়ে নেমে পড়েছেন অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিংয়ের রাজপথে|
দেশে বর্তমানে গিগ অর্থনীতিতে ঠিক কত কর্মী সক্রিয়ভাবে কর্মরত রয়েছেন, তার কোনো একক সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন ই-কমার্স, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে এই সংখ্যা ইতিমধ্যে ৩৫ থেকে ৩৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে | মুম্বাইভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ট্র্যাক্সন টেকনোলজিস লিমিটেডের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে গিগ অর্থনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত অন্তত ২৯২টি প্রযুক্তি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে | এর মধ্যে পাঠাও, চালডাল, সহজ, ট্রাক লাগবে কিংবা রমণীর মতো ২৭টি প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে | দেশের এই অন-ডিমান্ড ও গিগ ইকোনমি বাজারের বার্ষিক আকার এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারে, যা প্রমাণ করে যে বিকল্প এই কর্মসংস্থান ক্ষেত্রটি আর কোনো প্রান্তিক উদ্যোগ নয়, বরং মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত একটি সম্ভাবনাময় খাত|
পরিবহন খাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা গিগ শ্রমবাজারকে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান ও গতিশীল করে তুলেছে | আন্তর্জাতিক রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবারের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অন্যান্য বিকল্প কাজের তুলনায় উবারের চালক বা সহযোগীরা গড়ে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি আয় করছেন | যদিও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে অনেকেই একক কোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভর না করে একাধিক অ্যাপ ও নিজস্ব ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে বিকল্প আয় হিসেবে এই কাজ পরিচালনা করছেন | অপরদিকে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ বাইক, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা, খাবার সরবরাহ, কুরিয়ার, পার্সেল ডেলিভারি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে তোলা বিশাল নেটওয়ার্কে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার চালক ও সরবরাহকারীর কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছে | ফলে তরুণদের একটি বিশাল অংশ কোনো সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে |
অনলাইনভিত্তিক খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ খাতও গিগ কর্মীদের জন্য একটি স্থায়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে | দেশের শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডায় বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্স রাইডার স্বাধীনভাবে খাবার ও পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত আছেন | প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল তরুণদের আয়ের স্বাধীনতাই দিচ্ছে না, বরং রেস্তোরাঁ ও নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনে একটি বড় গতি সঞ্চার করেছে | এই খাতের কর্মীদের পেশাগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ফুডপান্ডার ‘প্যান্ডাহার্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় রাইডারদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা, ছাড়কৃত মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে টেলিমেডিসিনের মতো সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মক্ষেত্রের বাইরে কোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্মীরা আর্থিক সুরক্ষার ছাতা পেতে পারেন | এমন উদ্যোগ তরুণদের এই পেশায় কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা মানসিক স্বস্তি এনে দিলেও সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে |
এদিকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল গিগ শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের পদচারণা এখন বিশ্বদরবারে ঈর্ষণীয় এক উচ্চতায় পৌঁছেছে | দেশে বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনুবাদ, টেকনিক্যাল কনটেন্ট রাইটিং এবং ডেটা এন্ট্রির মতো মেধাভিত্তিক কাজে যুক্ত আছেন প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার তরুণ, যার মধ্যে অন্তত ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়মিত সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন | জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে ছয় লাখের অধিক সক্রিয় ফ্রিল্যান্সারের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে | বিশ্বব্যাংক ও অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং বৈশ্বিক গিগ শ্রমবাজারের মোট সরবরাহের প্রায় ১৬ শতাংশই বাংলাদেশের দখলে, যেখানে শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে প্রতিবেশী ভারত | তবে এই বিশাল অর্জনের মুখে নতুন অশনিসংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জেনারেটিভ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার | বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের কারণে প্রাথমিক স্তরের ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং ও ডিজাইনিংয়ের মতো গিগ কাজগুলো তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা উত্তরণে কর্মীদের উচ্চতর দক্ষতায় রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে |
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনশীল গিগ অর্থনীতি দেশের বেকারত্ব লাঘবে এক বিশাল রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে | বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, প্রথাগত অনানুষ্ঠানিক খাত যেমন কৃষিকাজ, দিনমজুরি বা সাধারণ রিকশা চালানোর চেয়ে আধুনিক গিগ অর্থনীতির সম্পৃক্ততা ও উপার্জনের মাত্রা বহুগুণ বেশি | কোনো উচ্চশিক্ষিত তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে ঘরে বসে না থেকে যদি সাময়িকভাবে অ্যাপে বাইক চালানো বা ফুড ডেলিভারিকে বেছে নেন, তবে সেটিকে পিছিয়ে পড়া হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই; বরং এটি মানবসম্পদের তাৎক্ষণিক সদ্ব্যবহারের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত | তবে তিনি সতর্ক করে এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গিগ ইকোনমির পরিধি বাড়লেই স্থায়ী ও মানসম্মত সব কর্মসংস্থানের সমাধান রাতারাতি হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না| বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম মনে করেন, যাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সীমিত কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করার সদিচ্ছা রয়েছে, তাদের জন্য এই খাতটি দারিদ্র্য জয়ের মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারে, যদি আর্থিক সেবায় তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়|
তবে সম্ভাবনার এই বর্ণিল চিত্রের পেছনে গিগ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কর্মীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি স্বীকৃতি না থাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিহ্নিত করে বলেন যে, গিগ অর্থনীতির চালিকাশক্তি তরুণরা মূলত স্বাধীন বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তারা প্রচলিত শ্রম আইনের ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত | তাদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটি নেই, এমনকি হঠাৎ প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা ব্লক হয়ে গেলে কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই | প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তনশীল অ্যালগরিদম ও কমিশনের হারের ওপর সার্বক্ষণিক নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক তরুণ দীর্ঘমেয়াদে গভীর মানসিক ও শারীরিক অবসাদে নিমজ্জিত হচ্ছেন | ফলে একটি যুগোপযোগী আইন ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো প্রণয়ন করে এই বিপুল কর্মীবাহিনীর সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশনের মতো সুবিধাদি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে|
নীতিনির্ধারণী মহলেও এই নতুন অর্থনৈতিক ধারার সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে | শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাম্প্রতিক সম্মেলনেও প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতির কর্মীদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলোও এখনো এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত কাঠামো প্রণয়নের চেষ্টা করছে | বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল, কারণ হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার সরাসরি বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন, যাদের দেশে কোনো দৃশ্যমান নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নেই | তাই তাদের কাজের নিরাপত্তা, নূন্যতম পারিশ্রমিক ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে | একই সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা নিশ্চিত করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের গিগ কর্মীদের টিকিয়ে রাখতে সরকার দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে|
পরিশেষে বলা যায় যে, সংকুচিত হতে থাকা প্রচলিত চাকরির বাজারে গিগ অর্থনীতি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অভাবনীয় আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে | তবে এই আশীর্বাদকে যদি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থায়ী শক্তিতে রূপান্তর করতে হয়, তবে কর্মীদের কেবল সস্তা শ্রমের উৎস বা প্রযুক্তি কোম্পানির হিসাবের খাতার সংখ্যা হিসেবে দেখলে চলবে না | গিগ কর্মীদের মেধা ও ঘামের যথাযথ মূল্যায়ন, তাদের সামাজিক সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে তাদের ধারাবাহিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল একটি মানবিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আধুনিক শ্রমবাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে | রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগেই নিশ্চিত হতে পারে এই লাখ লাখ স্বপ্নবাজ তরুণের কর্মজীবনের উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ|
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা