দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো এবং সরকারি ওয়েবসাইটগুলো এআই-ভিত্তিক সাইবার হামলার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে পিএইচপি প্রোগ্রামিংয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশেও সাইবার হামলার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইটি অডিট এবং সাইবার রেটিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানিয়েছে, নিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট শেষে তৈরি করা হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন। প্রথমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে জনসমক্ষে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে।
এর ফলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা সাইবার নিরাপত্তায় আরো বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। কেননা বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের এআই-ভিত্তিক সাইবার হামলা প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগ নেই। প্রযুক্তিবিদ্দের অভিযোগ, উন্নত প্রযুক্তির সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ সালে ব্যাংক খাতে প্রতিদিন ১৪৫ থেকে ৬৩০টি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ২৪ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। ১৩ শতাংশ উত্তর কোরিয়া এবং ১২ শতাংশ রাশিয়া থেকে। এ বিষয়ে কারিগরি দক্ষ জনবল এবং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির ঘাটতিকে দায়ী করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনলাইনভিত্তিক ‘ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম’ চালু করেছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।
এরই মধ্যে ব্যাংকসহ ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট শেষে আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ট্রিপল এ’, ‘ট্রিপল বি’-সহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হতে পারে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, রেটিং প্রকাশের সময় কোন খাত বা কোন উপাদানে দুর্বলতা রয়েছে, তাও জানানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার মান সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কিনতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাও বাড়বে।
অপরদিকে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির করা অডিট ও রেটিং দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, রেটিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘ট্রিপল’ র্যাংকিং পাওয়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।