শিরোনামঃ
বেসরকারি খাতে ঋণের খরা: কেবল পদক্ষেপে নয়, প্রয়োজন আস্থার সংকট দূরীকরণ ব্যথামুক্ত জীবন ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ কোটালীপাড়ার প্রবীণ শামসুল হকের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: শিক্ষামন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

পোশাক খাতে অস্থিরতা ও নাশকতায় অর্থায়নের অভিযোগ: সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক শিল্পখাতে চলমান তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থায়ন এবং জনবল সরবরাহের অভিযোগে এক নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী শিল্পপতি এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমস্ত ব্যাংক হিসাব জব্দের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ পাঁচ নভেম্বর দেশের সমস্ত তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই সংক্রান্ত অতীব জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়ে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর সকল প্রকার লেনদেন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে তালিকাভুক্ত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ উত্তোলন, অন্য হিসাবে স্থানান্তর এবং যেকোনো ধরনের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ২০৪টি হিসাবের ওপর স্থগিতাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা বিপুল সংখ্যক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাঁদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিচয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া কোন কোন ব্যাংকে তাঁদের কতটি হিসাব এবং কী পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে যে ধ্বংসাত্মক সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার নেপথ্যে কারা অর্থনৈতিক রসদ জোগান দিচ্ছে—তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকরভাবে বেরিয়ে আসে যে একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রী মহল পোশাক খাতের সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। আন্দোলনে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান, বিভিন্ন মাধ্যমে গোপন আর্থিক লেনদেন এবং বহিরাগত লোকবল মাঠে নামানোর পেছনে এই প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পরই ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

এর আগে প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বা সিআইসি এবং আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বারোটি বড় শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ অন্তত কুড়িজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থার চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশেষ কারণে গোয়েন্দা সেলের প্রতিবেদনের আলোকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তদন্তের পরিধি আরও বহুগুণ বিস্তৃত করে একযোগে ২০৪টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হলো।

গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক তালিকায় চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সকলেই বিগত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা দলটির ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও শিপার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা টিপু মুনশির নাম। একই অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় রয়েছে, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের কর্ণধার ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাংক হিসাবও এই নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় আরও যুক্ত রয়েছে ফেভিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী এবং অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু। এর পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপার মতো শীর্ষস্থানীয় পোশাক শিল্প মালিকদের ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বদের একাংশের বিরুদ্ধে পোশাক শিল্পে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির মতো ধ্বংসাত্মক কাজে অর্থ জোগানের অভিযোগ ওঠায় ব্যবসায়ী মহলে এক নজিরবিহীন তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের অন্দরে অস্থিরতা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজধানীর মিরপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এই অঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও সহিংসতায় সরাসরি অর্থ ও লোকবল সরবরাহের অভিযোগে মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বা বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের বিশ্বস্ত সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামের এক ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনও পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাপ্ত তথ্য ও ডিজিটাল ফরেনসিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলন সমন্বয়ের পেছনেও একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অনলাইনে এই নাশকতামূলক কার্যক্রম তদারকি করছিল বলে গোয়েন্দা নথিতে দাবি করা হয়েছে। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন উসকানিমূলক ভিডিও, ছবি ও গুজব অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই অপপ্রচার ও উসকানি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে সরাসরি যুক্ত থাকা প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেনের ওপরও গোয়েন্দারা কড়া নজরদারি রাখছেন।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছিলেন যে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি কিছু শিল্পমালিকেরও প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে। সেই বক্তব্যের পরপরই সরকারের রাজস্ব ও আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুততম সময়ে তদন্ত সম্পন্ন করে এই ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিশাল তালিকা চূড়ান্ত করে ব্যাংকিং খাতে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করল।

ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে স্থগিত বা জব্দ করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর যাবতীয় ডেবিট লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ হিসাবধারীরা চাইলেও তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো নগদ অর্থ তুলতে পারেন না, চেকের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করতে পারেন না কিংবা অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন না। রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ইমেইল ও দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে তালিকা পাঠিয়ে এই স্থগিতাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে আইনি ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কেবল ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ জারি হওয়াই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করে না। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সন্দেহভাজন অর্থ লেনদেন আটকে দেওয়া যাতে সেই অর্থ কোনো ধ্বংসাত্মক বা বেআইনি কাজে ব্যবহার হতে না পারে। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেনের নথিপত্র, আয়ের উৎস এবং আন্দোলনের দিনগুলোতে অর্থ স্থানান্তরের গতিপ্রকৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির মূল চালিকাশক্তি, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি এবং দেশের শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় অংশ নির্ভরশীল। এমন একটি সংবেদনশীল শিল্পে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হীন উদ্দেশ্যে কৃত্রিম শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করা এবং নাশকতায় হাজার হাজার কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতিসাধন করাকে জাতীয় অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক চরম অন্তর্ঘাত বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের দীর্ঘদিনের সুনাম ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বিনষ্ট করতে এবং দেশের সামগ্রিক সাপ্লাই চেইনকে পঙ্গু করে দিতে যে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছিল, আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই অপশক্তির শেকড়ে বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে শিল্প কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং মেহনতী শ্রমিক ভাইবোনদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে কোনো ষড়যন্ত্রকারীকেই একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যদি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও সমান কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে বলা যায় যে জাতীয় অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এবং পোশাক খাতে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প শান্তি ফিরিয়ে আনতে আর্থিক গোয়েন্দা নজরদারির এই নজিরবিহীন ও কঠোর অভিযান একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: সমকাল


এ জাতীয় আরো খবর...