রাজশাহী মহানগরীতে নেশার টাকার জন্য মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মায়ের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে ঘরে লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি; স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকার পুরাতন কৃষি ব্যাংক মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম সোহাগী খাতুন (৫৫)। তিনি ওই এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলের নাম সুমন।
ঘটনার বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। শনিবার রাতে নেশা করার জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন তিনি। মা সোহাগী খাতুন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সুমন। একপর্যায়ে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে মায়ের বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা।
হত্যাকাণ্ডের পর মায়ের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে সুমন নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা ওই ঘর থেকে ঘাতক সুমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের বক্তব্য নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত যুবককে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।