শিরোনামঃ
 পোশাক কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় সৌর প্যানেল : মিলতে পারে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ডিজিটাল নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শৃঙ্খলা গ্যাস সংকটে স্থবির কারখানা: চাকরি হারানোর আতঙ্কে লাখো শ্রমিক হাতছাড়া সোনালী সম্ভাবনা: সংকটে দেশের পাট শিল্প যে কারণে নিজের বিয়েতে বাবাকে ডাকলেন না গায়িকা পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি, ৫ পশ্চিমা দেশের নিন্দা রাশিয়ার সহায়তায় বন্দর নির্মাণ, মিয়ানমারে গ্রাম উচ্ছেদের অভিযোগ চলমান কফিন:  প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে  ফিটনেস ও পারমিটহীন স্লিপার বাস র‍্যাব কাগজেই বিলুপ্ত, থাকছে নতুন নামে কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য: অভিজ্ঞতা থেকে ১০টি পরামর্শ
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

সংসদ নির্বাচন: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশায় নারীরা এগিয়ে, তবুও মনোনয়নে পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অবস্থানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী। তবে যোগ্যতার এই ইতিবাচক চিত্র থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নে নারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়। মোট প্রার্থীর ৪ শতাংশেরও কম নারী এবার ভোটের মাঠে লড়ছেন।

উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী প্রার্থীর প্রাধান্য

এবারের নির্বাচনে মোট ৭৪ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে ৬০ জন প্রার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত দিক থেকেও নারীরা পিছিয়ে নেই। প্রার্থীদের ৬৫ শতাংশই কর্মজীবী। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, উন্নয়নকর্মী এবং উদ্যোক্তারা রয়েছেন। বয়স বিবেচনায় তরুণ ও মধ্যবয়সী নারীদের উপস্থিতিই বেশি; ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ।

মনোনয়নে দলগুলোর অনীহা ও জুলাই সনদ

জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ অনুযায়ী, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। মোট ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭৮ জন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ৬১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ১৭ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে।

মাঠের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে নারী প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। সাধারণ ভোটাররা এলাকায় যোগ্য ও শিক্ষিত নারী প্রার্থী পেয়ে গর্ববোধ করছেন। তবে মাঠপর্যায়ে নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। প্রচারণায় বাধা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং প্রতিপক্ষের পেশিশক্তির প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবুও প্রার্থীরা মনে করছেন, ভোটারদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে এবং তারা নারী নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত।

সম্পদ ও আর্থিক চিত্র

হলফনামা বিশ্লেষণে নারী প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একদিকে যেমন কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের মালিক ব্যবসায়ী নারী প্রার্থী রয়েছেন, তেমনি টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করা স্বল্প আয়ের প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও, অনেকেই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী।

তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিত্ব

নারীদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে হিজড়া জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৈরী পরিবেশ ও পেশিশক্তির দাপট সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারীরা যোগ্যতা ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাবে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না।


এ জাতীয় আরো খবর...