শিরোনামঃ
 পোশাক কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় সৌর প্যানেল : মিলতে পারে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ডিজিটাল নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শৃঙ্খলা গ্যাস সংকটে স্থবির কারখানা: চাকরি হারানোর আতঙ্কে লাখো শ্রমিক হাতছাড়া সোনালী সম্ভাবনা: সংকটে দেশের পাট শিল্প যে কারণে নিজের বিয়েতে বাবাকে ডাকলেন না গায়িকা পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি, ৫ পশ্চিমা দেশের নিন্দা রাশিয়ার সহায়তায় বন্দর নির্মাণ, মিয়ানমারে গ্রাম উচ্ছেদের অভিযোগ চলমান কফিন:  প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে  ফিটনেস ও পারমিটহীন স্লিপার বাস র‍্যাব কাগজেই বিলুপ্ত, থাকছে নতুন নামে কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য: অভিজ্ঞতা থেকে ১০টি পরামর্শ
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

ঢাকার বস্তিতে বস্তিতে ভোটারদের এনআইডি ও ফোন নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৫ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রতীকি ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার বিভিন্ন বস্তি এলাকায় ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির কর্মীরা প্রচারণার সময় এসব ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাঠ পর্যায়ের চিত্র

গত এক সপ্তাহে ভাসানটেক, কাফরুল, মিরপুর, কড়াইল, মহাখালী সাততলা ও তেজগাঁও বস্তি ঘুরে এবং অন্তত ৫০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বাসিন্দারা জানান, জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের জন্য ভোট চাইতে আসা কর্মীরা ভোটারদের এনআইডি দেখতে চাইছেন এবং কখনো কখনো মোবাইল নম্বরও নিচ্ছেন। একইভাবে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধেও এনআইডির ফটোকপি বা নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভাসানটেক বেনারসি পল্লী এলাকার বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী রুবিনা জানান, গত ২১ জানুয়ারি দুই ব্যক্তি তার কাছে ভোট চাইতে এসে এনআইডি দেখতে চান। তিনি কার্ডটি দেখালে তারা মোবাইলে সেটির ছবি তুলে নিয়ে যান। একই অভিযোগ করেন ভাসানটেক ১ নম্বর বস্তির রাহেলা বেগম (৫৩)। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে জামায়াত ও বিএনপির পরিচয় দিয়ে দুটি দল তার এনআইডির ছবি তুলে নিয়ে গেছে।

কড়াইল বস্তির এরশাদনগরের বাসিন্দা মো. হাসান (৬৫) জানান, সম্প্রতি বিএনপি কর্মীরা কম্বল বিতরণের সময় ভোটারদের এনআইডির ফটোকপি সংগ্রহ করেছে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও উত্তেজনা

তথ্য সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে। ভাসানটেক ১ নম্বর বস্তির মুন্নি বেগম জানান, গত ২১ জানুয়ারি ১০-১২ জনের একটি দল এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে এলে তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় বিএনপি কর্মীরা এসে ওই দলকে জেরা শুরু করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

ভাসানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন নিশ্চিত করেন, ২১ জানুয়ারি স্থানীয়রা আটজন পুরুষ ও চারজন নারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটককৃতরা দাবি করে, তারা নির্বাচনের জরিপ কাজ করছিল। তবে গুলশান সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলয় রহমান ও পুলিশ সূত্র জানায়, জরিপ চালানোর মতো কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। পরে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া কাফরুল ও মিরপুরে এনআইডি চাওয়া নিয়ে উত্তেজনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন। তিনি দাবি করেন, জামায়াত কর্মীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে। পরে কাফরুল থানা জামায়াতের আমির প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং এমন কাজ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচন কমিশনের সতর্কতা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি সংগ্রহ করার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইসি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রচারণার সময় অন্যের এনআইডি তথ্য সংগ্রহ, বহন বা হস্তান্তর করা এবং অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য

বনানী থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রানা আহমেদ বলেন, “কিছু দল প্রচারণার প্রমাণ হিসেবে ওপরমহলকে দেখানোর জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করছে।” তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, কর্মীরা এমন কাজ করছে বলে তার জানা নেই। তিনি বলেন, “আমরা কর্মীদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। দলটির প্রচার বিভাগের প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শীর্ষ নেতারা ফোন বা খুদে বার্তার কোনো উত্তর দেননি।


এ জাতীয় আরো খবর...