শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতায় ভারতের উদ্বেগ কেন? : মিডল ইস্ট আইয়ের রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৬৩ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগ জোরদার হওয়ার বিষয়টি ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে উঠে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএসআই প্রধানের নজিরবিহীন সফর

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক ঢাকা সফর করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটিই ছিল কোনো আইএসআই প্রধানের প্রথম বাংলাদেশ সফর। দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

  • কূটনৈতিক: ২০২৫ সালের আগস্টে ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। একই বছর পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশে আসেন।

  • সামরিক: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে। পরবর্তীতে অক্টোবরে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা ঢাকা সফর করেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিরক্ষা চুক্তি ও যুদ্ধবিমান নিয়ে গুঞ্জন

ডিসেম্বরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ জানিয়েছে, এই চুক্তির খসড়া তৈরিতে দুই দেশ একটি যৌথ কাঠামো গঠন করেছে এবং পাকিস্তান বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ (JF-17) যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছে।

ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশেষজ্ঞদের মত

ভারতের সাবেক সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) দীপেন্দ্র সিং হুডা মনে করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলবে। তবে তিনি ধারণা করেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার এমন বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তার মতে, ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র বিতর্ক এবং সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা চাপে রয়েছে।

অন্যদিকে, কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নূর আহমদ বাবা মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকায় এখনই সৌদি-পাকিস্তান ধাঁচের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবসম্মত নয়।

ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান

সম্প্রতি ঢাকা সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ভারত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের পাশে থাকতে চায়। তবে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিলে ভিন্ন বার্তা যাবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...