শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

আদর্শ ভিন্ন হলেও কৌশল এক: আ.লীগের ভোট পেতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ৭৯ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ও অগ্রাধিকার খাতগুলো ভিন্ন হলেও জয়ের লক্ষ্যে দুই দলের কৌশল এখন এক ও অভিন্ন। মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় দলটির বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র কিন্তু বর্তমানের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল।

টার্গেট ‘নৌকা’র ভোটার

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না। ফলে দলটির বিশাল ভোটব্যাংক এখন ‘অনাথ’। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলই মনে করছে, এই ভোটগুলো যার বাক্সে যাবে, জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ভারী হবে। মাঠপর্যায়ের তথ্যানুসারে, দুই দলই আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের আগামী পাঁচ বছর নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও আশ্বাসে কাজ না হলে পরোক্ষ হুমকি-ধমকির কৌশলও নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, নির্বাচনে ভোটের হার বাড়াতে এবং বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো এখন বড় ‘ফ্যাক্টর’।

বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের বয়ান

বিএনপি-জামায়াতের এই কৌশলকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এটি ভোটের কৌশল হতে পারে, তবে বিএনপি-জামায়াত যা করছে তা বাড়াবাড়ি এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।” অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর মতে, “ক্ষমতায় যাওয়ার বুর্জোয়া রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। এটি আদর্শবাদী রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও সুবিধাবাদী রাজনীতি যতদিন থাকবে, এই চর্চাও থাকবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের ভোট টানছি না, আমরা ভোটার হিসেবেই সবাইকে মূল্যায়ন করি।” তবে আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান স্বীকার করেন, নির্বাচনে জিততে নানা কৌশল নিতে হয়, যা দুই দলই করছে।

বিএনপির অগ্রাধিকার: ৩১ দফা ও তারুণ্য

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। দলটির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে:

  • রাষ্ট্র মেরামত: ৩১ দফার বাস্তবায়ন।

  • কার্ড সেবা: ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু।

  • তারুণ্য: ১৮-৩৩ বছর বয়সী তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন। ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার।

  • সংখ্যালঘু সুরক্ষা: সংখ্যালঘু উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং সম্পত্তি দখল রোধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও নিরাপত্তা সেল গঠন।

  • নারীর ক্ষমতায়ন: মাতৃত্বকালীন ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ।

  • অর্থনীতি: যুক্তরাজ্যের আদলে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গঠন।

জামায়াতের অগ্রাধিকার: নিরাপদ বাংলাদেশ ও সংস্কার

অন্যদিকে, ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের মূল প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:

  • নারী নেতৃত্ব: মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রতিনিধি রাখা হবে। (যদিও এবারের নির্বাচনে দলটি কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে)।

  • রাষ্ট্রীয় তহবিল: রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্র থেকে বার্ষিক অর্থ বরাদ্দ দেওয়া।

  • দুর্নীতি দমন: প্রথম ১০০ দিনে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত সংস্কার এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া।

  • পররাষ্ট্রনীতি: প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এবং পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধি।

  • মুক্তিযুদ্ধ: মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা এবং সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।

ভোটের মাঠে আদর্শিক লড়াই ছাপিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ভোট ভাগানোর এই প্রতিযোগিতা নির্বাচনকে ভিন্ন এক মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


এ জাতীয় আরো খবর...