রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

যমুনার সামনে ১৪৪ ধারা জারি, সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেলে ছত্রভঙ্গ সরকারি কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ৭২ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের হটাতে ব্যাপক অ্যাকশনে গেছে পুলিশ। সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর পুলিশি ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে থেকে সরে শাহবাগ ও রমনা পার্ক এলাকার দিকে চলে যেতে বাধ্য হন।

১৪৪ ধারা ও বিজিবি মোতায়েন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার দুপুরের পর ডিএমপি কমিশনার যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর আগেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নিরাপত্তায় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

পুলিশি অ্যাকশন ও সংঘর্ষ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি কমিশনার টি-শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আন্দোলনকারীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

দুপুর ১২টার পর পুলিশ ব্যাপকভাবে ধাওয়া শুরু করে। দফায় দফায় লাঠিচার্জ, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ফলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা টিকতে না পেরে পিছু হটলে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে।

আটক ও প্রতিক্রিয়া

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪-৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর থেকে আসা কর্মচারীরাও রয়েছেন। রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে এবং প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে”। অন্যদিকে শাহাদাৎ নামে এক আন্দোলনকারী পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “কমিশন ৯ মাস পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিয়েছে, সরকার এখন টালবাহানা করছে। এটি আমাদের ন্যায্য আন্দোলন”।

সকালের ঘটনাপ্রবাহ

এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারী যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। শাহবাগ মোড়ে পুলিশ প্রথমে জলকামান মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও তারা বাধা উপেক্ষা করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজকের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে তারা অবস্থান ছাড়বেন না।


এ জাতীয় আরো খবর...