ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত হওয়ায় নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। প্রায় ২০ বছর ধরে আলোচনার পর এই চুক্তি হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর প্রস্তুতি না নিলে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
‘মাদার অব অল ডিলস’ ও ভারতের সুবিধা
দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বা সব চুক্তির সেরা হিসেবে অভিহিত করেছেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে ৯০ শতাংশ ভারতীয় পণ্য ইইউর বাজারে এবং ৯৬ শতাংশ ইইউ পণ্য ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এর ফলে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে ভারত বড় ধরনের সুবিধা পাবে।
২৪ শতাংশ শুল্ক ব্যবধানের শঙ্কা
বর্তমানে বাংলাদেশ ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা (ইবিএ) ভোগ করলেও ভারত ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করে। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “২০২৭ সাল থেকে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ২০২৯ সালে এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে উল্টো ১২ শতাংশ কর দিতে হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে মোট ২৪ শতাংশের পার্থক্য তৈরি হবে, যা বাংলাদেশের সক্ষমতার বাইরে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
রপ্তানি পরিসংখ্যান
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলারই গেছে ইইউর বাজারে। ইইউ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশের গন্তব্য।
অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বড় ধরনের চাপে পড়বে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ইইউতে তাদের রপ্তানি ৫ বিলিয়ন থেকে ১১ বিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “যেহেতু ভারতের নিজস্ব তুলা ও কাঁচামাল রয়েছে এবং ‘রুলস অব অরিজিন’ মানা তাদের জন্য সহজ, তাই বাংলাদেশকে এখন থেকেই বড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে”।