১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ভোটাধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছায় রেল, সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। স্টেশনে ট্রেনের ছাদ, লঞ্চের ডেক কিংবা বাসের কাউন্টার—সবখানেই যেন উৎসবের আমেজ। তবে যানবাহন কম থাকায় ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
রেলপথে উপচে পড়া ভিড়
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের আসন ও করিডোর পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। এই যাত্রায় শামিল হয়েছেন তরুণ থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সব বয়সী ভোটার। যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর তারা নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
ঠাকুরগাঁওগামী এক যাত্রী বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি যাচ্ছি। অনেকদিন বাড়ি যাওয়া হচ্ছিল না, তাই ভোটের এই উপলক্ষ কাজে লাগাচ্ছি।”
লঞ্চে ভিড় ঠেলে বাড়ি ফেরা
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠছেন। যাত্রীদের কণ্ঠে ছিল সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা।
এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে বিগত স্বৈরাচারের আমলে আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার ভোট হবে, তাই উৎসবমুখর পরিবেশে বাড়িতে যাচ্ছি।”
সড়কপথে ভাড়ার নৈরাজ্য ও ভোগান্তি
গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। টিকিট সংকট ও বাস না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে অনেকের। তবে বাড়তি ভাড়া আর পথের ভোগান্তি উপেক্ষা করেই বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ।
যাত্রীরা বলছেন, বাস স্টেশনে গাড়ি থাকলেও তা তুলনামূলক কম। বাসে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। পায়ে হেঁটেও রওনা দিয়েছেন অনেকে।
তাদের প্রত্যাশা, যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন হবে এবং তারা নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।