রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জে বিএনপির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক: সাড়ে ৫ দশকের দুর্গে হানা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি / ৫৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জ ছিল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের দুর্গ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দুর্গে হানা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস গড়েছে বিএনপি। জেলার তিনটি ভিআইপি আসনেই জয়লাভ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে দলটি। অথচ বরাবরই এই তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতারা।

আওয়ামী লীগহীন নির্বাচন ও বিএনপির উত্থান

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারেনি। ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি মনে হলেও বিএনপিকে লড়তে হয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৬ জন প্রার্থীর সঙ্গে। তিনটি আসনে গড়ে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

তিন আসনের ফলাফল ও রেকর্ড

১. গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী):

এ আসনে ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল্লা। এই আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের। তিনি এখান থেকে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২. গোপালগঞ্জ-২ (সদর-কাশিয়ানী আংশিক):

এ আসনে ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী। এই আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের। তিনি এখান থেকে টানা নয়বার এমপি নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন।

৩. গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া):

সবচেয়ে ভিভিআইপি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। এই আসনটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি এখান থেকে টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভোটার ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি নতুন ভোটাররা। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, “প্রথমবার আমি ভোট দিয়েছি। পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।”

গোপালগঞ্জের এই পরিবর্তনকে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, ভোটের ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।”


এ জাতীয় আরো খবর...