শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এই খাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শিক্ষামন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ৫৪ বছর পরও শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পাওয়াটা হতাশাজনক। তিনি উল্লেখ করেন:
জিডিপির অনুপাত: বর্তমানে শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি, যা ৫ বা ৬ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
প্রতিবেশী দেশ: বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেট নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম। এটি বড় কোনো জ্ঞানী না হলেও বোঝা যায় যে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
পাঠ্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মিলন বলেন, যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবমুখী ও সময়ের প্রয়োজনে হতে হবে। অতীতের পাঠ্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষাকে ‘হাস্যকর অবস্থান’ থেকে বের করে একটি কার্যকর কাঠামোতে নেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর আগের মেয়াদের ‘নকল বন্ধ’ ও শিক্ষার শৃঙ্খলা ফেরানোর কঠোর ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠলে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন এক জায়গায় নিতে হবে যাতে উন্নত দেশগুলো আমাদের গবেষণা ও শিক্ষাকে মূল্যায়ন করে। তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করতে চাই।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে সবার সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনে পরিবর্তন আসবে না। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।