শিরোনামঃ
১২২ সরকারি সংস্থার দেনার বোঝা: ৮ লাখ কোটির ঝুঁকিতে রাষ্ট্রায়ত্ত খাত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দেশ: জেল পালানো ১৮২ কয়েদির তথ্য নেই কারাগারে ঘন ঘন লোডশেডিং ও ওভারলোডিং: কোল্ডস্টোরেজে পচছে আলু, বাড়ছে জেনারেটর খরচ জাতীয় দলের ফুটবলার আল আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশনা জারি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার: ইসি সচিব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ মিয়ানমারের বক্তব্যে বাংলাদেশের উদ্বেগ কারাগারের নাম বদলে ‘কাস্টডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’ করার উদ্যোগ
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

ঘন ঘন লোডশেডিং ও ওভারলোডিং: কোল্ডস্টোরেজে পচছে আলু, বাড়ছে জেনারেটর খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

গ্যাস সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের প্রধান কৃষিনির্ভর জেলা রাজশাহী। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই ঘাটতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলার হিমাগারগুলোতে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে হিমাগারের ভেতরের কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় সংরক্ষিত আলুতে পচন ধরতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমাগার মালিকদের প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিকল্প উপায়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি তেল বাবদ গুনতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের বাড়তি অর্থ। এতে যেমন হিমাগার পরিচালনার খরচ আকাশচুম্বী হচ্ছে, তেমনি পচে যাওয়া আলুর কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৩৯টি হিমাগার রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ৩৭টি সচল রয়েছে। এসব সচল হিমাগারে সম্মিলিতভাবে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন আলু সংরক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে জেলায় বাম্পার ফলন হওয়ায় ধারণক্ষমতার সীমার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ আলু বিভিন্ন হিমাগারে ঢোকানো হয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মজুত এবং ঘন ঘন লোডশেডিং—এই দুইয়ের সমন্বয়ে হিমাগারগুলোতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত গাদাগাদির কারণে ভেতরের বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই আলু ঘেমে দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকার তামান্না স্পেশাল কোল্ডস্টোরেজসহ বিভিন্ন হিমাগার থেকে প্রতিদিন বস্তা বস্তা পচা আলু বের করে ফেলে দিতে হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, মৌসুমে বেশি লাভের আশায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আলু লোড নিয়েছে। এখন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভেতরের আলু দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে এবং সেই ক্ষতি ব্যবসায়ীদের ওপর বর্তাচ্ছে। আলাইবিদিরপুর এলাকার রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ডস্টোরেজের উদাহরণ টেনে ব্যবসায়ীরা জানান, যে হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার টন, সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত মজুতের কারণে আলু নির্দিষ্ট সময় পরপর বের করে বাতাস দেওয়ার মতো নিয়মিত পরিচর্যাও করা সম্ভব হচ্ছে না, যা পচনের ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
এদিকে হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই তাঁদের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও হিমাগারের ভেতরের ঠান্ডা ভাব সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে। কিন্তু লোডশেডিংয়ের মাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে জেনারেটর চালানো ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। ডিজেলচালিত ভারী জেনারেটর সচল রাখতে গিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় জেনারেটর চালাতে গিয়ে পরিচালন ব্যয়ের পেছনে লাখ লাখ টাকা বাড়তি বের হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই যেখানে একটি মাঝারি হিমাগারকে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা সরকারি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়, তার ওপর জেনারেটরের এই বাড়তি খরচ যুক্ত হয়ে তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি হিমাগার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাও এই সংকটের জন্য বড়ভাবে দায়ী। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর অবস্থান বছরে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বার পরিবর্তন ও নিয়মিত বাতাস দেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। ফলে চাষি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো ফসল নষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হিমাগার খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শিল্প ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...