সারাদেশে রেলপথে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি তেলবাহী ট্রেন এবং গত সোমবার রাতে ভৈরবে যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা জংশনে খুলনা থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্রেনের চারটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়।
উদ্দেশ্য: ট্রেনটি আমনুরা এলাকায় থাকা ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য তেল পরিবহন করছিল।
ক্ষয়ক্ষতি: বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশের মাত্র কয়েকশ গজ দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে রহনপুর-রাজশাহী রুটে তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে আছে।
উদ্ধার কাজ: আমনুরা জংশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদী থেকে আসা উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে ওয়াগন উদ্ধার ও লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, একই স্থানে আগেও একাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টা থেকে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল-২’ এর একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: ভৈরব বাজার জংশন ছেড়ে যাওয়ার ১৫০ মিটার দূরে ইঞ্জিনের পরবর্তী চতুর্থ কোচটি লাইনচ্যুত হয়।
উদ্ধার কাজের স্থিতি: ভৈরব রেলস্টেশনের মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আখাউড়া রেলস্টেশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উদ্ধার কাজ শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
দুটি বড় জংশনে এই দুর্ঘটনার ফলে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রমজানের প্রথম দিনে ট্রেন আটকা পড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।