ভয়াবহ যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা যখন ধুলোয় মিশে যাওয়া এক জনপদ, যখন সেখানে বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ আর খাদ্যের জন্য হাহাকার—ঠিক তখনই গাজাবাসীর জন্য এক অনন্য ‘আশার আলো’ নিয়ে এলো বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গাজায় একটি ঝকঝকে নতুন জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬১২ কোটি টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী সভায় এই ঘোষণা আসে। সভায় গাজা ত্রাণ প্যাকেজের জন্য ৯টি দেশ মোট ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফিফা প্রধান জানান, কেবল ঘরবাড়ি বা হাসপাতাল নির্মাণই যথেষ্ট নয়, মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসকেও পুনর্গঠন করতে হবে।
গাজার ফুটবল অবকাঠামো বদলে দিতে ফিফা যে অনুদান প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তা নিচে দেওয়া হলো:
চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা বারবার নজরে এসেছে। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মজা করে ইনফান্তিনোকে বলেন, “আমি মনে হয় আপনার চাকরিটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি”। উল্লেখ্য, গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রতিনিধিত্বকারী ফিলিস্তিনি ফুটবল দলটি ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃতি পেলেও তারা এখনো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
গাজায় যখন মৌলিক চাহিদার তীব্র সংকট, তখন বিশাল অর্থ ব্যয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়ে অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ইনফান্তিনোর মতে, ফুটবল হলো বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা যা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং শোকাতুর মানুষের মনে সুখ ফিরিয়ে আনে। ব্রিটেনসহ অনেক মার্কিন মিত্র এই বোর্ড সভায় যোগ না দিলেও ইন্দোনেশিয়া ও আরব দেশগুলো গাজা পুনর্গঠনে বিপুল সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।