শিরোনামঃ
প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একুশে ফেব্রুয়ারিতে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার আজিমপুরে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশা চালকের রমজানেও স্বস্তি নেই বাজারে: মাছ-মাংসের আকাশছোঁয়া দাম, বেগুনের ‘সেঞ্চুরি’ জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়: নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস পালনের আহ্বান জামায়াতের আমিরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির মৃত্যু: হাসপাতালে আনার আগেই শেষ নিঃশ্বাস বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ: পশ্চিমা নেতাদের বেইজিং সফর কি ওয়াশিংটনের জন্য সতর্কবার্তা? নলতায় প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার: ভোরে শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

নলতায় প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার: ভোরে শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ততা শুরু হয় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতায়। ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হয় কয়েক হাজার মানুষের আহার প্রস্তুতির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রাঙ্গণে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতার প্রস্তুত করা হয়, যা এলাকায় এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

কী কী থাকে ইফতার আয়োজনে?

প্রতিটি ইফতার প্লেটে খেজুর, কলা, চিড়া, ছোলা ও ফিরনিসহ প্রায় ৬-৭ পদের খাবার সাজানো হয়। এই আয়োজনে খাবারের পরিমাণের খতিয়ান অবাক করার মতো:

  • ছোলা: প্রতিদিন প্রায় ১৯০ কেজি ছোলা রান্না করা হয়।

  • ফিরনি: ১৪৪ কেজি সুজি, ১৫০ কেজি চিনি ও ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে তৈরি হয় সাত ডেক ফিরনি।

  • সিঙ্গারা: ১৮০ কেজি আলু ও ১৫৪ কেজি ময়দার খামির দিয়ে তৈরি হয় হাজার হাজার সিঙ্গারা।

শ্রম ও সেবার সমন্বয়

২৫ বছর ধরে রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি আমানত আলী জানান, ভোর থেকে কাজ শুরু করে বিকেল ৩টার মধ্যে সব শেষ করতে হয়। এই বিশাল কাজে নিয়োজিত থাকেন প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি এবং ২৫০ থেকে ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। ২০ বছর ধরে সেবা দেওয়া নাজমুল হাসানের মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবক এখানে কাজ করে মানসিক শান্তি পান বলে জানান।

ইতিহাস ও অর্থায়ন

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান:

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৩৫ সালে সাধক খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (র.) এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্থানীয়রা বাড়ি থেকে খাবার এনে ইফতার করলেও এখন তা বিশাল উৎসবে রূপ নিয়েছে।

  • ব্যয়: প্রতিদিন এই ইফতার আয়োজনে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

  • উৎস: দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দাতাদের অনুদানেই এই বিশাল খরচ মেটানো হয়।


এ জাতীয় আরো খবর...