মহান শহীদ দিবসের শোকের আবহে কুষ্টিয়ায় ঝরল পাঁচটি তাজা প্রাণ। কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি শহরের ত্রিমোহনী থেকে বাইপাস হয়ে খাজানগরের দিকে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরও মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহতরা সবাই কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন:
আমেনা খাতুন (৬৫): খাজানগর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী।
কমেলা খাতুন (৬২): মৃত সিরাজুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
জাকারিয়া সরকার (৪০): আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই (সিএনজিচালক)।
আশরাফুল (২৮): খাজানগর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।
শিরিনা খাতুন (২০): আশরাফুলের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমেনা ও কমেলা তাদের মেয়ের বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা এলাকা থেকে নিজ বাড়ি খাজানগরে ফিরছিলেন। পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক পলাতক থাকলেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে প্রদেয় আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।