৫ই আগস্ট পরবর্তী ‘মুক্ত’ ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সেহেরি খেতে আসা দুই নারী এক ছাত্রের হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের কান্নাকাটি ও অভিযোগের একটি ভিডিও বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী দুই নারী অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে তাঁদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বর্ণনা দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি:
অতর্কিত হামলা: তাঁরা পুরান ঢাকায় সেহেরি খেয়ে টিএসসিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো কারণ ছাড়াই তাঁদের সঙ্গে থাকা বাইক রাইডারকে মারধর শুরু করেন এক ঢাবি ছাত্র।
শারীরিক লাঞ্ছনা: প্রতিবাদ করতে গেলে ওই ছাত্র ভুক্তভোগী এক নারীর গালে চড় মারেন এবং তাঁদের গায়ে হাত তোলেন।
অশ্লীল কটূক্তি: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই ছাত্র তাঁদের ‘প্রস্টিটিউট’ বা যৌনকর্মী বলে গালিগালাজ করেন এবং তাঁদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এক নারীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “৫ই আগস্টের পরে আমরা কি সেফ না? ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে! আমাদের ড্রেসে কি লেখা আছে আমরা প্রস্টিটিউট?” অন্য এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলে হয়ে আমার গালে কেন থাপ্পড় মারবে? আমি কি বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসছি?”
গভীর রাতে ক্যাম্পাসের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। শাহবাগ থানা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত ছাত্রকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।