আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বুধবার সংসদীয় দলের সভা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, প্রথা অনুযায়ী আগামীকাল সংসদের প্রথম কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। তিনি জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে, যারা নির্ধারণ করবে কোনগুলো বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যেহেতু বর্তমান সংসদে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন। প্রথম দিন শোক প্রস্তাব গ্রহণ, কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, তাই সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। বিএনপি কেন তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
তিনি আরও জানান, বৈঠকে নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদের কার্যপ্রণালী ও ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের পদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান আগামীকাল অধিবেশনেই স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াত আগামীকাল সংসদে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও ডা. তাহের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে যা আগামীকাল অধিবেশনে দেখা যাবে।