ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরি খেতে যাওয়ার সময় জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে পাভেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ভাষ্যমতে, তিনি সেহরি খাওয়ার জন্য বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়েছিলেন। সেখানে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী ২০-২৫ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে এবং ‘ছাত্রলীগ’ কর্মী দাবি করে মারধর শুরু করে।
পাভেলের অভিযোগ, তাকে প্রথমে বুয়েট ক্যাম্পাসে, পরে রিকশায় তুলে ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিয়ে কয়েক দফায় বেধড়ক পেটানো হয়। মারধরের সময় তাকে বাইকের চাবি দিয়ে ঘুষি, বেল্ট দিয়ে আঘাত ও মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানার সামনে রেখে আসা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ এই মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও একে ‘ছাত্রলীগ বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, পাভেল জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং বিভাগ ও হল থেকে বয়কটকৃত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তিনি ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে সাইফুল্লাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি… লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিবও একই সুরে পাভেলের সম্পৃক্ততার কথা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী পাভেল কঠোরভাবে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নন এবং নিয়মিত একজন শিক্ষার্থী। বিষয়টি যাচাই করতে তিনি তার বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোকন মিয়া জানান, পাভেল বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা তথ্য পায়নি। চিকিৎসা শেষে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।