মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

এক নজরে কী কী থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ডে’?

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক / ১৬ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে চালু হওয়া এই কার্ডটি মূলত দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি ‘সুরক্ষা কবজ’ হিসেবে কাজ করবে। প্রাথমিক পাইলটিং শেষে এটি দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো মূলত যে ৪টি বড় সুবিধা পাবে:

১. সাশ্রয়ী মূল্যে মাসিক রেশন (রেশন সুবিধা)

ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কিনতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • চাল ও আটা: কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে চাল ও আটা সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে দেওয়া হবে।

  • ভোজ্যতেল ও ডাল: নির্দিষ্ট পরিমাণ সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কার্ডের আওতায় থাকবে।

  • চিনি ও পেঁয়াজ: উৎসবের সময় এই তালিকায় চিনি ও পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

২. সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা (ক্যাশ সাপোর্ট)

ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত একটি স্মার্ট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এই কার্ডের সাথে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময় পরপর সরাসরি নগদ অর্থ (Cash Transfer) পাঠানো হবে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই অর্থ পরিবারের নারী প্রধানের নামে বরাদ্দ থাকবে।

৩. চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা

কার্ডধারী পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া এই কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে ওই পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি বা শিক্ষা উপকরণ সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

৪. টিসিবি পণ্যে অগ্রাধিকার

বর্তমানে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে গিয়ে যে লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি পোহাতে হয়, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সেটি ডিজিটাল করা হবে। কার্ডধারীরা আগে থেকেই জানতে পারবেন তারা কোন দোকান বা ডিলার থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন, ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে।


বাস্তবায়ন ও তদারকি

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতি রোধে এই কার্ডের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত করা হয়েছে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিতে না পারেন।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি রেশন কার্ড নয়, বরং এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার প্রতীক। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।

আবেদন করার ধাপসমূহ:

১. অনলাইন পোর্টাল: সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট familycard.gov.bd (কাল্পনিক) এ গিয়ে এনআইডি নম্বর দিয়ে আবেদন করা যাবে। ২. তথ্য যাচাই: আবেদনের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন অফিস থেকে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা যাচাই করা হবে। ৩. কার্ড সংগ্রহ: যাচাইবাছাই শেষ হলে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহের সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর কপি।

  • পরিবারের নারী প্রধানের পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

  • সচল একটি মোবাইল নম্বর (যা এনআইডি দিয়ে কেনা)।

সারা বাংলাদেশের এনলিস্টমেন্ট সেন্টার ও এনরোলমেন্ট স্ট্যাটাস

বিভাগ এনলিস্টমেন্ট সেন্টার (প্রধান) সদস্য এনরোলমেন্ট স্ট্যাটাস বর্তমান অবস্থা
ঢাকা সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস ও উপজেলা কমপ্লেক্স ৮৫% সম্পন্ন পাইলটিং চলছে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আঞ্চলিক অফিস ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ৭২% সম্পন্ন ডাটা ভেরিফিকেশন
রাজশাহী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইউডিসি ৬৫% সম্পন্ন আবেদন গ্রহণ চলছে
খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা ভবন ৫৮% সম্পন্ন আবেদন গ্রহণ চলছে
বরিশাল উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ৪৭% সম্পন্ন রেজিস্ট্রেশন শুরু
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিবালয় ৫০% সম্পন্ন রেজিস্ট্রেশন শুরু
রংপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও কৃষি অফিস (সমন্বিত) ৪০% সম্পন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ
ময়মনসিংহ পৌরসভা ও সকল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ৫২% সম্পন্ন রেজিস্ট্রেশন শুরু


এ জাতীয় আরো খবর...