মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

ইফতারের পর ঘুম কাটানোর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক / ৩ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের আনন্দটুকু অনেক সময় ম্লান করে দেয় হঠাৎ জেঁকে বসা অলসতা বা ঘুম ঘুম ভাব। ইফতার শেষ করতে না করতেই শরীর ভারী হয়ে আসা বা চোখ বুজে আসা অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। মূলত খাবারের ধরণ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসই এর প্রধান কারণ। তবে একটু সচেতন হলেই ইফতারের পর অলসতা কাটিয়ে আপনি ফিরে পেতে পারেন পূর্ণ প্রাণচাঞ্চল্য।

আপনার শরীরকে সতেজ ও সক্রিয় রাখতে বিশেষজ্ঞরা নিচের ৫টি পরামর্শ দিচ্ছেন:

১. হালকা খাবার দিয়ে শুরু করুন

ইফতারে আমরা অনেকেই একসাথে অনেক বেশি ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খাবার খেয়ে ফেলি। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা পরে শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে দেয়। তাই শুরুতেই পেট ভরে না খেয়ে পানি, খেজুর এবং ফলের মতো হালকা খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।

২. বিরতিহীন শুয়ে থাকা পরিহার করুন

ইফতারের পর পর শুয়ে বা বসে পড়লে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং অলসতা জেঁকে বসে। খাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা পায়চারি বা হাঁটাহাঁটি করুন। এটি আপনার হজমে সাহায্য করবে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরকে সতেজ রাখবে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই

সারাদিনের পানিশূন্যতা শরীরের শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়ে অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শরীরে আর্দ্রতা বজায় থাকলে মাথা ভারী লাগা বা অবসাদ ভাব অনেকটাই কমে আসবে।

৪. ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টিতে ‘না’

জিলাপি, বেগুনি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরকে নিস্তেজ করে দেয়। এসব খাবারের বদলে দই, চিড়া, ফল বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চললে ইফতার পরবর্তী অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।

৫. ঘুমের চক্র ঠিক রাখুন

রমজানে সেহরি ও তারাবির কারণে ঘুমের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আসে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ইফতারের পর ক্লান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই দিনের বেলায় সম্ভব হলে অল্প সময় বিশ্রাম নিন এবং রাতের ঘুম যেন গভীর ও পর্যাপ্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।


রমজানের বরকত পূর্ণভাবে উপভোগ করতে শরীর সুস্থ রাখা জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আনলে আপনি কেবল অলসতামুক্তই থাকবেন না, বরং ধর্মীয় ইবাদত ও নিত্যদিনের কাজেও পাবেন বাড়তি শক্তি।


এ জাতীয় আরো খবর...