অনেকেই রাতে ঘুমের মধ্যে ঘেমে ভিজে যান, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নাইট সোয়েটস’ (Night Sweats) নামে পরিচিত। সাধারণ মনে হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের হরমোন জনিত সমস্যা, ইনফেকশন বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার উপসর্গ।
নিচে ঘুমের সময় ঘাম হওয়ার প্রধান ৪টি কারণ আলোচনা করা হলো:
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হরমোনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
নারীদের ক্ষেত্রে: মেনোপজ বা পেরিমেনোপজ চলাকালীন ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে গেলে শরীরে হঠাৎ ‘হট ফ্ল্যাশ’ বা গরম ঝলকানি হতে পারে, যার ফলে রাতে ঘাম হয়।
থাইরয়েড সমস্যা: হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে শরীরের বিপাকীয় হার (Metabolism) বেড়ে যায়। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতে ঘাম হতে পারে।
শরীর যখন কোনো রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যক্ষ্মা (TB), কোনো ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থাকলে জ্বর না থাকলেও রাতে ঘাম হওয়ার প্রবণতা থাকে। যদি ঘামের সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা ক্লান্তির মতো লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও আমাদের স্নায়ুতন্ত্র কিন্তু সজাগ থাকে। যারা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাদের শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। বিশেষ করে দুঃস্বপ্ন দেখা বা ইনসোমনিয়া থাকলে এমনটা বেশি হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি একটি কমন সমস্যা। যারা ইনসুলিন নেন, তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বা সুগার লেভেল রাতে অতিরিক্ত কমে গেলে (Hypoglycemia) শরীর ঘেমে যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা বা ক্লান্তি অনুভব করা এই সমস্যার অন্যতম লক্ষণ।