মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের গর্জনে প্রকম্পিত। টানা ছয়দিন ধরে চলা যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলো এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। মার্কিন সাবমেরিন কর্তৃক ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালাল তেহরান।
যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন কেবল সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে:
| দেশ/অঞ্চল | নিহতের সংখ্যা (আনুমানিক) | প্রধান ঘটনা |
|---|---|---|
| ইরান | ১,০৪৫+ জন | শীর্ষ কমান্ডার হত্যা ও ২ হাজার স্থাপনা ধ্বংস। |
| লেবানন | ৭০+ জন | দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি হামলা। |
| ইসরায়েল | ১১ জন | তেল আবিব ও জেরুজালেমে ইরানি মিসাইল আঘাত। |
| যুক্তরাষ্ট্র | ০৬ জন (সেনা) | ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নৌ-যুদ্ধ। |
সংঘাতের মূল ঘটনাবলি:
ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবি: মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এতে ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তেহরানের হুঁশিয়ারি: ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা পুরো অঞ্চলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা: কুয়েত উপকূলে রহস্যময় বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের টহল দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাতারে মার্কিন দূতাবাসের আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইসরায়েলের পরিস্থিতি:
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তেল আবিব ও জেরুজালেমজুড়ে অবিরাম সতর্কসংকেত (সাইরেন) বাজছে। নাগরিকরা বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর এই সরাসরি সংঘাত বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।