ইরানের দীর্ঘ ৩৬ বছরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরিদের নিয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ মার্চ) এক বক্তৃতায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পরবর্তী শীর্ষ নেতারাও চলমান সামরিক সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “তাদের নেতৃত্ব খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন অবস্থা এমন যে, যে-ই নেতা হতে চায়, শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।”
সামরিক সক্ষমতা: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে ১০-এর স্কেলে ‘১৫’ নম্বর দিয়ে দাবি করেন যে, বর্তমানে মার্কিন বাহিনী বিশ্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
কঠোর অবস্থান: তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানকে দমাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘খুবই শক্ত অবস্থানে’ আছে এবং পিছু হঠার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় (অপারেশন এপিক ফিউরি/রোয়ারিং লায়ন) তেহরানে নিজ বাসভবনে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
মোজতবা খামেনির অভিষেক: খামেনির মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি (৫৬) ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব: জানা গেছে, ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মূলত শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) সরাসরি চাপে মোজতবাকে এই পদে আসীন করেছে। মোজতবা দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়াল থেকে ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে খামেনির ছেলের এই স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে অনেক বিশ্লেষক ‘বংশতান্ত্রিক শাসন’ হিসেবে দেখছেন। যদিও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করে আসছিল, কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মোজতবাকেই বেছে নিয়েছে দেশটির নীতি-নির্ধারকরা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং খামেনির ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত শীঘ্রই থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেভল্যুশনারি গার্ডের সাথে থাকায় ইরানের পাল্টা হামলা আরও তীব্র হতে পারে।