মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক হাজারো নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থেমে নেই ইরানের তেল বাণিজ্য। তবে ইরানের এই বিশাল তেল সাম্রাজ্যের এখন প্রায় একক নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই যাচ্ছে বেইজিংয়ের পকেটে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীন ও ইরান এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য থাকলেও ইরান থেকে তেল কিনতে চীন ব্যবহার করছে নিজস্ব মুদ্রা ‘ইউয়ান’। এনডিটিভির তথ্যমতে, এই জটিল লেনদেনের মূলে রয়েছে চীনের স্বল্পপরিচিত ‘ব্যাংক অব কুনলুন’। রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি মূলত ডলারের বদলে ইউয়ানে তেলের দাম মেটানো এবং সেই অর্থ পুনরায় চীনের বাজারে ফিরিয়ে আনার কাজ করে। ফলে তেলের জন্য চীন যে অর্থ খরচ করে, তা দিয়ে ইরান চীনের যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক পণ্য কিনতে বাধ্য হয়, যা প্রকারান্তরে চীনের অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করছে।
নিষেধাজ্ঞার নজর এড়াতে ইরান সরাসরি তেল পাঠায় না।
উৎস গোপন: ইরানের তেলকে প্রায়ই ‘মালয়েশিয়ার তেল’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জাহাজে তোলা হয়।
জাহাজ বদল: গভীর সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (Ship-to-ship transfer) মাধ্যমে তেলের আসল উৎস লুকিয়ে ফেলা হয়।
ট্যাংকার: এই বাণিজ্যে ইরান ব্যবহার করছে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা পুনর্নিবন্ধিত ট্যাংকার বহর।
এক সময় ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের বড় ক্রেতা থাকলেও মার্কিন চাপে তারা এখন আমদানিকারকের তালিকা থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন। বর্তমানে চীনের বাইরে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ইরান থেকে তেল কিনছে:
সিরিয়া: মোট রপ্তানির ৩.৩% (মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার)।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: মোট রপ্তানির ২%।
ভেনেজুয়েলা: মোট রপ্তানির ১.২%।
ক্রেতা সংকটে থাকায় ইরানকে অনেকটা ‘মরণকামড়’ দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরান ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৯ ডলার পর্যন্ত কমে তেল বিক্রি করছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিষ্টের মতে, ২০২৪ সালে ইরান তেল রপ্তানি করে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ডলার আয় করলেও এই বিশাল ছাড়ের কারণে দেশটিকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনতে হচ্ছে।