শিরোনামঃ
ইরানের আকাশসীমা দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র, স্থলপথে নামল হাজারো কুর্দি যোদ্ধা ঘুমের মধ্যে ঘাম হওয়া কি কোনো রোগের লক্ষণ? সভাপতি বুলবুল বিদেশে, দায়িত্ব না থাকায় অস্থিরতা বাড়ছে বিসিবিতে ঈদের ছুটিতে কালবৈশাখীর চোখরাঙানি: ১৬-১৮ মার্চ বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির প্রবল শঙ্কা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত ইরানের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে মার্কিন প্রতিনিধির শ্রদ্ধা ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ: আমানতকারীদের ওপর পুলিশের জলকামান অফিস তালাবদ্ধ রেখে লাপাত্তা: ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ধরা খেয়ে ৩ কর্মকর্তা বদলি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক স্থগিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

মার্কিন মিসাইল ভাণ্ডারে কি টান পড়ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১১ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন অগ্নিগর্ভ। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধের দশম দিনে এসে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে কি টান পড়ছে? পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সতর্কতা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির মধ্যে এক বিশাল বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।

১. পেন্টাগনের ১০ দিনের ‘ডেডলাইন’ ও ট্রাম্পের পাল্টা দাবি

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে যদি আরও ১০ দিনের বেশি উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চলে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

  • পেন্টাগনের উদ্বেগ: সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কৌশলগত ও আর্থিক—উভয় দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ঝুঁকিতে পড়বে।

  • ট্রাম্পের অবস্থান: তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ’। তাঁর মতে, এই মজুদ দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

২. আকাশজুড়ে মার্কিন সমরাস্ত্রের মহড়া

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বোমারু ও যুদ্ধবিমান: বি-১ ও বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫, এফ-২২ র‍্যাপ্টর এবং এফ-১৫।

  • ড্রোন ও মিসাইল: এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, হিমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল।

  • স্মার্ট বোমা: সাধারণ বোমাকেও ‘জেড্যাম’ (JDAM) কিটের মাধ্যমে স্মার্ট বোমায় রূপান্তর করে নিখুঁত হামলা চালানো হচ্ছে।

৩. থাড ও প্যাট্রিয়ট: মজুদের ওপর চরম চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (Interceptors)।

  • থাড (THAAD) সংকট: লকহিড মার্টিনের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে মাত্র ৯টি থাড ব্যাটারি সক্রিয় আছে। গত বছর ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট মজুদের প্রায় ২৫ শতাংশ (১৫০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর) ব্যবহার করে ফেলেছে।

  • অন্যান্য ফ্রন্টে টান: প্যাট্রিয়ট ও এমএস-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ফলে ইরানে অতিরিক্ত সরবরাহ করলে অন্য অঞ্চলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

৪. যুদ্ধের ভয়াবহ ব্যয়: প্রতিদিন কোটি ডলারের লোকসান

এই যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় আকাশচুম্বী। সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির হিসাব অনুযায়ী:

  • প্রথম ২৪ ঘণ্টা: অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই ব্যয় হয়েছে ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার।

  • রণতরীর ব্যয়: ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এর মতো একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

  • ব্যয় বৈষম্য: প্রতিপক্ষের একটি সস্তা ড্রোন বা মিসাইল ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর খরচ করতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হতে পারে।


💰 মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয় ও সক্ষমতা চিত্র

📊 মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট ও বর্তমান ব্যয় (অনুমান)

প্রথম ২৪ ঘণ্টার ব্যয় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার।
রণতরী পরিচালনা ব্যয় প্রতিদিন ৬.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রতি গ্রুপ)।
থাড ইন্টারসেপ্টর মজুদ ইতিমধ্যেই ২৫% ব্যবহৃত (প্রায়)।
সক্রিয় থাড ব্যাটারি সারা বিশ্বে মাত্র ৯টি।
📌 তথ্যসূত্র: পেন্টাগন, আল জাজিরা ও লকহিড মার্টিন।


এ জাতীয় আরো খবর...