মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধের ৬ষ্ঠ দিনে এসে বিপাকে পড়েছেন ২১০টি ফ্লাইটের প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি যাত্রী। এই সংকট সামাল দিতে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো জরুরি নীতিমালা ঘোষণা করেছে।
সাধারণত টিকিট বাতিল বা তারিখ পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হলেও, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সগুলো বিশেষ ছাড় দিচ্ছে:
ফ্রি রি-ইস্যু (Free Re-issue): বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এবং কাতার ও এমিরেটসের মতো এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কোনো অতিরিক্ত মাসুল (Penalty) ছাড়াই নতুন তারিখে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফুল রিফান্ড (Full Refund): যদি কোনো যাত্রী অনিশ্চয়তার কারণে যাত্রা বাতিল করতে চান, তবে তাকে টিকিটের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ‘ক্যানসেলেশন ফি’ কাটা হবে না। তবে এটি শুধুমাত্র ওইসব ফ্লাইটের জন্য প্রযোজ্য যা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে।
ভাউচার সুবিধা: কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স টাকার বদলে ১ থেকে ২ বছর মেয়াদী ‘ট্রাভেল ভাউচার’ অফার করছে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো রুটে ভ্রমণ করা যাবে।
ট্রাভেল এজেন্সির ভূমিকা: যারা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেটেছেন, তাদের সরাসরি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কারণ অনলাইন রিফান্ড প্রসেস হতে ১০-১৫ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে।
গত ৬ দিনে ২১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের এভিয়েশন ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে প্রভাব পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
রাজস্ব ক্ষতি: শুধুমাত্র হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ হারাচ্ছে সরকার। এয়ারলাইন্সগুলোর দৈনিক আয়ের ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০-৭০ কোটি টাকা।
টিকিটের দাম বৃদ্ধি: বিকল্প রুটে (যেমন: ব্যাংকক বা কলম্বো হয়ে) কিছু ফ্লাইট চালু থাকলেও সেগুলোর টিকিটের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ গুণ বেড়ে গেছে।
অব্যবহৃত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: ফ্লাইট না থাকায় বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ক্যাটারিং ও জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল আর্থিক লোকসানে পড়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা: মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিয়োগ অনিশ্চয়তা: যারা নতুন ভিসা নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের ফ্লাইটে এই দীর্ঘসূত্রতা বিদেশি নিয়োগকর্তাদের কাছে ভুল বার্তা দিতে পারে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য হুমকিস্বরূপ।