সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা। তিনি কবে দেশে ফিরবেন, আদৌ ফিরবেন কি না—এ নিয়ে বোর্ডের ভেতরে-বাইরে জল্পনা বাড়ছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে শুরুতে জানানো হয়েছিল, বুলবুল অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তবে সময় গড়ালেও এখনো তার ফেরার কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে একটি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে, তাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সামনে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-এর। সেই সিরিজেও তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বোর্ড সূত্র বলছে, বুলবুল বিদেশ যাওয়ার আগে প্রশাসনিক দায়িত্ব কার ওপর থাকবে—তা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করে যাননি। যদিও বোর্ডে সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন ফারুক আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন, তবে তাদের কেউই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা যায়নি। এমনকি সভাপতির ফেরার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কেও তারা অবগত নন।
সাধারণত কোনো বোর্ড সভাপতি বিদেশে গেলে সহ-সভাপতির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে যান। কিন্তু এবারের ক্ষেত্রে তা না হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বোর্ডের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সভাপতির অনুপস্থিতিতে এসব বিষয়ে তদারকি বা জবাবদিহি কমে গেছে—এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বিসিবির প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা বিশৃঙ্খলার আভাস দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সভাপতি বুলবুল যদি আগে থেকেই সিইও ও সহ-সভাপতিদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে যেতেন, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখন তিনি কবে দেশে ফিরবেন—সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।