ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করেছে। হোয়াইট হাউজের দাবি অনুযায়ী, যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক কাঠামো চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন মদদপুষ্ট কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে স্থল অভিযান শুরু করায় যুদ্ধের এক নতুন ফ্রন্ট উন্মোচিত হয়েছে।
বুধবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে অভিযানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী:
শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু: হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
স্থাপনা ধ্বংস: ইরানের ভেতরে ২ হাজারেরও বেশি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
নৌ-বিপর্যয়: ইরানের ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরানের পুরো আকাশসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা অনেক ভালো করছি এবং ইরানি শাসনব্যবস্থা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।”
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকি সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধা ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে।
নতুন ফ্রন্ট: আকাশপথে হামলার পাশাপাশি এখন পশ্চিম দিক থেকে স্থল অভিযানের মুখে পড়েছে তেহরান।
লক্ষ্য: কুর্দি যোদ্ধাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভিন্ন ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া।
যোদ্ধাদের সক্ষমতা: এই বাহিনীটি মূলত ইরানি কুর্দি সম্প্রদায়ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, ইরানে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তারা কুর্দি যোদ্ধাদের এই স্থল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কুর্দিদের এই অংশগ্রহণ যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল করে তুলতে পারে।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ছয় দিনের টানা যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে জরুরি অবস্থা চললেও কেন্দ্রীয় কমান্ড ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।