মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল লেবানন বা গাজা সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে সুদূর ভারত মহাসাগর পর্যন্ত। বুধবার রাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির প্রধান সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি জাহাজ সাবমেরিন হামলার শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন শতাধিক নাবিক।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টার দিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (IAI) সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
গুরুত্ব: এই প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট তৈরির প্রধান কেন্দ্র।
হিজবুল্লাহর দাবি: লেবাননের কয়েক ডজন জনপদে ইসরায়েলি হামলার জবাবে তারা এই নিখুঁত আক্রমণ চালিয়েছে। এছাড়াও উত্তর ইসরায়েলের একটি ‘ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি’তে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার মাইল দূরে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ সাবমেরিন হামলার শিকার হয়ে সাগরে তলিয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার: জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ৩২ জন নাবিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও ১০১ জন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রহস্যময় সাবমেরিন: হামলাটি ঠিক কোন দেশের সাবমেরিন থেকে চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপথে উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি জাহাজে হামলাটি সম্ভবত ইসরায়েল বা তার মিত্রদের কোনো গোপন অভিযান হতে পারে, যা ইরানের সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার কৌশলের অংশ। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক কারখানায় হামলা প্রমাণ করে যে, তারা এখন ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।