ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেছেন তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি। বুধবার (৪ মার্চ) লন্ডসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) সরাসরি চাপে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ মোজতবাকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
৫ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। ৫৫ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে পর্দার অন্তরালে থেকে ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার এই দায়িত্ব গ্রহণ ইরানের ইতিহাসে এক নতুন মোড়, কারণ এর মাধ্যমে দেশটিতে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম লিডার পদে পারিবারিক উত্তরাধিকার প্রথা প্রতিষ্ঠিত হলো।
মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। তিনি এক হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতা যেই হোক না কেন, তাকে হত্যার লক্ষ্যবস্তু করবে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কাৎজ লিখেছেন:
“ইরানি শাসকগোষ্ঠী তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে যে নেতাই নির্বাচিত করুক না কেন, তাকে হত্যার নিশানা বানানো হবে। তার নাম যা–ই হোক বা তিনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, ইসরায়েলের হাত থেকে রেহাই পাবেন না।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইসরায়েল ও মুক্ত বিশ্বের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী যেকোনো শাসককে গুঁড়িয়ে দিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোজতবা খামেনিকে তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি কট্টরপন্থী এবং আইআরজিসি-র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মতে, মোজতবার নেতৃত্ব ইরানকে আরও বেশি আগ্রাসী করে তুলতে পারে। তাই তাকে শুরুতেই প্রতিহত করার পরিকল্পনা নিয়েছে তেল আবিব।