ইরান অভিযানে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই তর্জন-গর্জনে দমে না গিয়ে মাদ্রিদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দেন, ইরানের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং স্পেন কোনোভাবেই এর অংশ হবে না। ফলে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘাঁটিগুলো থেকে ১৫টি সামরিক বিমান ও জ্বালানি ট্যাঙ্কার সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “স্পেন খুব খারাপ আচরণ করেছে। তারা আমাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন নেই।”
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে স্পেন সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলা। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস মনে করিয়ে দেন যে, ঘাঁটিগুলো যৌথভাবে পরিচালিত হলেও সেগুলো স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে। স্পেন স্পষ্ট করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এটিই প্রথম নয় যে স্পেন ট্রাম্পের বিষনজরে পড়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি অস্ত্রবাহী জাহাজ নোঙর করতে না দেওয়া এবং ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আগেই আলোচনায় ছিল মাদ্রিদ।
তবে মজার বিষয় হলো, বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রই স্পেনের কাছে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত ছিল ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে যত টাকার পণ্য রপ্তানি করে (২৬.১ বিলিয়ন ডলার), তার চেয়ে কম আমদানি করে (২১.৩ বিলিয়ন ডলার)। ফলে বাণিজ্য বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রেরই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।