শিরোনামঃ
৫ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত? মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধাক্কা: কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ কোটি ডলারের রাডার ধ্বংস অগ্নিঝরা ৪ মার্চ: উত্তাল জনসমুদ্র আর স্বাধীনতার অদম্য শপথ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে: নতুন গভর্নর দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ: সচিবালয়ে ১০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় প্রশাসনে বড় পরিবর্তন: পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ ১২ মার্চ সংসদে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ‘একটি দল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’: শিশির মনির ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়ার হয়ে লড়তে যাওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

৫ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১১ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ১,২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর যে প্রলয়ংকরী হামলা শুরু হয়েছে, তার ব্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে সমর বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, তা আদতে তাদের বার্ষিক সামরিক বাজেটের অতি সামান্য একটি অংশ মাত্র। অর্থাৎ, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য পেন্টাগনের হাতে রয়েছে আরও বিশাল ও অপ্রতিরোধ্য এক যুদ্ধতহবিল।

বাজেটের মাত্র ০.১ শতাংশ ব্যয়

আনাদোলু নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত শনিবার অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। সাধারণ দৃষ্টিতে এই অঙ্কটি বিশাল মনে হলেও, ২০২৬ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় এটি মাত্র ০.১ শতাংশ

এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষা বাজেটের এক হাজার ভাগের মাত্র এক ভাগ খরচ করেই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ৯৯.৯ শতাংশ বাজেট এখনও অক্ষত, যা ওয়াশিংটনকে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

 যুদ্ধের আর্থিক শক্তিমত্তা: কেন যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী?

অভিযানের প্রথম কয়েক দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত) মোট ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে এটি কোনো বড় চাপ নয়। এর কারণসমূহ হলো:

  • বিশাল বরাদ্দ: মার্কিন কংগ্রেস ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ৮৩৯.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

  • অব্যাহত সরবরাহ: প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মতো জটিল প্রযুক্তির জন্য আলাদাভাবে ১৬০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা যুদ্ধের রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

  • দৈনন্দিন সক্ষমতা: দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (ইউএসএস ফোর্ড ও লিংকন) পরিচালনা করতে দিনে মাত্র ১৫-১৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, যা মার্কিন বাজেটের হিসেবে নগণ্য।

 ট্রাম্পের ‘অনড়’ অবস্থান ও অপ্রতিরোধ্য অর্থনীতি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে যতদিন প্রয়োজন এই অভিযান চলবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যে অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা তাদের মোট সক্ষমতার ভগ্নাংশ মাত্র। অর্থাৎ, পেন্টাগনের হাতে এখনও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো আরও শত শত অভিযান চালানোর মতো আর্থিক ও সামরিক যোগান রয়েছে।


💰 মার্কিন যুদ্ধ বাজেটের সক্ষমতা: একটি বিশ্লেষণ

🛡️ মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট বনাম যুদ্ধ ব্যয় (২০২৬)

২০২৬ প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায়)।
প্রথম ২৪ ঘণ্টার ব্যয় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার (বাজেটের মাত্র ০.১%)।
প্রথম ৩ দিনের মোট ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
অবশিষ্ট সক্ষমতা বাজেটের ৯৯% এর বেশি এখনও অব্যবহৃত।
“অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের ভার বহনে পুরোপুরি সক্ষম।”

যদিও সমালোচকরা তেলের দাম বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতির কথা বলছেন, তবে সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এমন এক অবস্থানে আছে যেখানে ইরানে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত তাদের মূল বাজেটে বড় কোনো ফাটল ধরাতে পারবে না।


এ জাতীয় আরো খবর...