ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, তেহরান থেকে চালানো এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা AN/FPS-132 সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এই রাডারটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি)। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ‘চোখ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
AN/FPS-132 রাডারটি মূলত একটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং রাডার’ (Early Warning Radar)। এটি কয়েক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে যেকোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশলে এটি ছিল অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রাডার ধ্বংস হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ল।
ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাডারটির অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে সেখানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা হয়েছে। একে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর ইরানের এক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেন্টাগন বা কাতারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধরনের সামরিক সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দেবে। এর ফলে ইরান বা তার প্রক্সিদের চালানো পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।