শিরোনামঃ
‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে: নতুন গভর্নর দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ: সচিবালয়ে ১০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় প্রশাসনে বড় পরিবর্তন: পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ ১২ মার্চ সংসদে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ‘একটি দল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’: শিশির মনির ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়ার হয়ে লড়তে যাওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’ এ কোন ইরান দেখছে বিশ্ব চীন-মার্কিন ‘প্রক্সি ওয়ার’ ও বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ: সমুদ্রসীমায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অভিবাসন সংকটের ধাক্কা সামলে মার্কিন অর্থনীতি যখন ২০২৬ সালে একটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক অভিযান মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি ‘ওয়াইল্ড কার্ড’, যা যে কোনো মুহূর্তে মন্দা ডেকে আনতে পারে।

১. জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীর স্থবিরতা

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত অচল। যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ৮০ ডলারে পৌঁছালেও এটি কেবল শুরু মাত্র।

  • আশঙ্কা: ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে এই প্রণালী রুদ্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • প্রভাব: যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজে তেল উৎপাদনকারী দেশ, তবুও বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হবে।

২. সিইও-দের আস্থা ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

জেপি মরগান (J.P. Morgan)-এর মতে, বছরের শুরুতে মার্কিন ব্যবসায়িক মহলে যে নতুন বিনিয়োগ ও নিয়োগের উৎসাহ দেখা দিয়েছিল, তা এখন থমকে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ সিইও এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ব্যবসার জন্য বড় হুমকি মনে করছেন। সামরিক যুদ্ধের কারণে কোম্পানিগুলো তাদের অলস মূলধন বিনিয়োগ না করে এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (Wait and See) নীতি গ্রহণ করছে।

৩. ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) কঠিন চ্যালেঞ্জ

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দ্বিধাবিভক্ত। সাবেক ফেড প্রধান জ্যানেট ইয়েলেন সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ধীর প্রবৃদ্ধি (Stagflation) তৈরি করতে পারে।

  • সম্ভাবনা ক: মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেড সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে পারে।

  • সম্ভাবনা খ: সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে পড়লে মন্দা ঠেকাতে ফেড-কে দ্রুত সুদের হার কমাতে হতে পারে।

৪. ইরানের ‘জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার’ রণকৌশল

এসজিএইচ (SGH) ম্যাক্রো অ্যাডভাইজারস-এর মতে, ইরান এখন ‘Scorched Earth’ বা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করার নীতি গ্রহণ করতে পারে। তারা সরাসরি যুদ্ধের বদলে সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রক্সি ওয়ারের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে চায়। কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলা এর একটি বড় উদাহরণ, যা ইতিমধ্যেই এলএনজি (LNG) সরবরাহ বিঘ্নিত করেছে।


📉 মার্কিন অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব

📊 মার্কিন অর্থনীতি: ঝুঁকি ও পূর্বাভাস (মার্চ ২০২৬)

সূচক (Indicators) বর্তমান অবস্থা ও ঝুঁকি
জ্বালানি তেল ৮০ ডলার (বর্তমান); ১২০ ডলার ছাড়ানোর ঝুঁকি (যদি প্রণালী বন্ধ হয়)।
সুদের হার (Fed Rate) কমানোর পরিকল্পনা অনিশ্চিত; মুদ্রানীতি এখন যুদ্ধের গতির ওপর নির্ভরশীল।
সরবরাহ শৃঙ্খল শিপিং রুট রুদ্ধ; বিমা খরচ আকাশচুম্বী; উৎপাদন নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত।
প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হওয়ার আশঙ্কা; বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রবল ঝুঁকি।
উৎস: জেপি মরগান, সিটি ব্যাংক এবং ব্লুমবার্গ নিউজ।


এ জাতীয় আরো খবর...