শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ইরানের মারণাস্ত্র ও রণকৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৪৮ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ইরান যে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, তা এখন তারা পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূলত অত্যাধুনিক বিমান বাহিনীর অভাব পূরণ করতে তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী (Missile Force) এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল।

১. ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার: মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শক্তি

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী শুধু সংখ্যার দিক থেকেই বড় নয়, এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

  • স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১৫০–৮০০ কিমি): ‘ফাত্তাহ’, ‘জুলফিকার’ এবং ‘কিয়াম-১’। এগুলো মূলত নিকটবর্তী মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় দ্রুত আঘাত হানার জন্য তৈরি।

  • মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১,৫০০–২,০০০ কিমি): ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘খোররামশাহর’ এবং ‘সেজ্জিল’। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পুরো ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘সেজ্জিল’ কঠিন জ্বালানিচালিত হওয়ায় এটি খুব দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়।

  • হাইপারসনিক মিসাইল: ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন, যা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

২. ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন ‘সোয়ার্ম’ (ঝাঁক)

রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে ইরানের প্রধান অস্ত্র হলো ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন।

  • ক্রুজ মিসাইল: ‘সুমার’ (পাল্লা ২,৫০০ কিমি) এবং ‘পাভেহ’। এগুলো মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় বলে শনাক্ত করা কঠিন।

  • ড্রোন প্রযুক্তি: ইরান সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোনের (যেমন শাহেদ সিরিজ) বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে। একসাথে শত শত ড্রোন (Drone Swarm) উৎক্ষেপণ করে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে মূল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করাই তেহরানের প্রধান কৌশল।

৩. ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’

ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ মাটির নিচে সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ এবং দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছে, যাকে তারা ‘মিসাইল সিটি’ বলে। এর ফলে প্রথম দফার বড় কোনো বিমান হামলায় ইরানের সব সক্ষমতা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। এই টিকে থাকার ক্ষমতার কারণেই পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন।

৪. ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance)

ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হলো তাদের আঞ্চলিক মিত্র বাহিনী বা প্রক্সি নেটওয়ার্ক।

  • হিজবুল্লাহ (লেবানন): দেড় থেকে দুই লক্ষ রকেট ও মিসাইল নিয়ে তারা উত্তর ইসরায়েলকে ব্যতিব্যস্ত রাখছে।

  • হুথি (ইয়েমেন): লোহিত সাগরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

  • ইরাক ও সিরিয়ার মিলিশিয়া: এরা নিয়মিতভাবে ওমান, জর্ডান ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও রকেট হামলা চালাচ্ছে।

৫. হরমুজ প্রণালী ও নৌ-যুদ্ধ

ইরানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালী। তারা তাদের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, নৌ-মাইন এবং দ্রুতগতির অ্যাটাক ক্রাফটের মাধ্যমে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ইতিমধ্যেই ‘মায়েরস্ক’-এর মতো বড় শিপিং গ্রুপ এই রুট এড়িয়ে চলায় তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।


🚀 ইরানের প্রধান অস্ত্রসমূহ: এক নজরে

⚔️ তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র ও রণকৌশল বিশ্লেষণ

অস্ত্রের ধরন ক্ষমতা ও প্রভাব
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ২,৫০০ কিমি পাল্লা; ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটি টার্গেট।
হাইপারসনিক মিসাইল ‘ফাত্তাহ’ সিরিজ; অপরাজেয় গতি ও রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা।
কামিকাজে ড্রোন ঝাঁক বেঁধে হামলা (Swarm); শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করা।
নৌ-মাইন ও মিসাইল হরমুজ প্রণালী অবরোধের মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি বাজার অচল করা।
প্রক্সি নেটওয়ার্ক হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের মাধ্যমে চতুর্মুখী যুদ্ধ।
বিশ্লেষণ: সামরিক শক্তির চেয়ে ইরানের ‘সারভাইভ্যাবিলিটি’ বা টিকে থাকার ক্ষমতা এবং প্রক্সি যুদ্ধের কৌশল পশ্চিমাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তা।

📍 স্ট্র্যাটেজিক ম্যাপ: ইরান বনাম মার্কিন ঘাঁটি

ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা এবং সম্ভাব্য টার্গেট জোন

ঘাঁটির নাম ও অবস্থান ইরান থেকে দূরত্ব ঝুঁকির মাত্রা
আল-উদাইদ (কাতার)
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি
~৩০০ – ৪৫০ কিমি সর্বোচ্চ ঝুঁকি
ক্যাম্প আরিফজান (কুয়েত)
হাজার হাজার মার্কিন সৈন্যের অবস্থান
~২০০ – ৪০০ কিমি সর্বোচ্চ ঝুঁকি
ইউএস ৫ম নৌবহর (বাহরাইন)
পারস্য উপসাগরের প্রধান নৌ-নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র
~২৫০ – ৩৫০ কিমি সর্বোচ্চ ঝুঁকি
প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি (সৌদি আরব)
অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স যুক্ত
~৫০০ – ৭০০ কিমি মাঝারি ঝুঁকি
ইনজারলিক বিমান ঘাঁটি (তুরস্ক)
ন্যাটোর অধীনে কৌশলগত অবস্থান
~৮০০ – ১০০০ কিমি নিম্ন ঝুঁকি

🔴 ইরানি সক্ষমতা: ইরানের সেজ্জিল ও শাহাব-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ কিমি+। ফলে উপরের সবগুলো ঘাঁটি সরাসরি ইরানের আওতাভুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৪০,০০০ মার্কিন সৈন্য বর্তমানে এই বিপদের মুখে রয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর...