ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের রেশ ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ অস্থিরতা। গত শনিবার ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এবার সরাসরি সৌদি আরব ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা এবং বাহরাইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি শক্তিশালী ড্রোন আঘাত হেনেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার ফলে দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। রিয়াদের মতো কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় এই হামলা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
হামলার পরপরই সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা এবং জাহরানে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিক ও মিশন কর্মীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে (Shelter-in-place) থাকার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া ওই অঞ্চলে অবস্থিত যেকোনো সামরিক স্থাপনার আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড এবং স্টাফ বিল্ডিং বিমান ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে রকেটের আঘাতে ঘাঁটিটির জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত বাহরাইনের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।


বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে তেহরান বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এই অঞ্চলের কোনো মার্কিন পরিকাঠামোই অক্ষত রাখবে না। এই পাল্টা আক্রমণের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।