সংসদীয় রীতি অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে পলাতক থাকায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় এক বিশেষ সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এই সংকটময় মুহূর্তে কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ১৯৭৩ সালের নজির অনুসরণ করে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে তাঁর ওপর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। পাঁচবারের এই সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বেই সংসদের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং গঠিত হবে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী।
১৯৪৬ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭৯ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এই ভূবিজ্ঞানী এ পর্যন্ত পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিন মেয়াদে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আগামী ১২ মার্চের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ড. মোশাররফ। এই অধিবেশনে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে পাসের জন্য উপস্থাপন করা হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর সভাপতিত্বের মাধ্যমেই সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে।