ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরান এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি এবং দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট ভবন সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে কাতার লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয়টি সরাসরি আল-উদাইদ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
গুরুত্ব: আল-উদাইদ হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করে।
ক্ষয়ক্ষতি: কাতার সরকার জানিয়েছে, ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটেও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার বিকেলে এই হামলার পর কনস্যুলেট ভবন থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।
হামলার দৃশ্য: বিবিসি ভেরিফাই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন সরাসরি কনস্যুলেট ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে এবং পার্কিং লটে আগুন ধরে গেছে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, ড্রোনের আঘাতে চ্যান্সেলারি ভবনের পাশের পার্কিং লটে আগুন ধরেছিল। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কনস্যুলেটের সকল কর্মী নিরাপদ আছেন। রুবিও এই ঘটনাকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দুবাই ও কাতারের আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ছাদ ধসে পড়ার মতো বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর স্টেশন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানের ১,২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তেহরান এখন ‘বেপরোয়া’ প্রতিশোধের পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এখন আর কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে তাদের সবাইকে যুদ্ধের আওতায় নিয়ে আসছে।