তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর এখন সবার নজর বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেয়ারের দিকে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ মুখ খুঁজছে দলটি। আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো বহাল থাকলেও রাজনৈতিক মহলে তাঁকে সরিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
কেন তিনি: দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, একাধিকবার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন এবং দলের ভেতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
অন্যান্য নাম: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় থাকলেও তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো অন্তত তিন-চারজন যোগ্য নেতা রয়েছেন।
১২ মার্চ সংসদের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। এই পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন:
ওসমান ফারুক: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব স্পিকার পদের জন্য তাঁকে শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
জয়নুল আবেদীন: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হলেও আইনি দক্ষতার কারণে আলোচনায় আছেন।
বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাতীয় সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পিকার পদটি প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। জামায়াতকে ইতিমধ্যে নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংসদ উপনেতার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। বর্তমান সংবিধানে এই পদের বিধান না থাকলেও অতীতের নজির অনুসরণ করে বিএনপি কাউকে এই পদে বসাতে পারে। তবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সংবিধানে এর সরাসরি কোনো বিধান নেই।