ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এতদিন খামেনির কার্যালয় বা ‘বেত-এ-রাহবারি’-র ছায়া শাসক হিসেবে পরিচিত মোজতবা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। খামেনির চার ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় মোজতবা ছাত্রজীবন থেকেই অত্যন্ত কট্টরপন্থী মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি ইরানের প্রথাগত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং মাশহাদ ও কোমে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
মোজতবা খামেনি কখনোই কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক পদে ছিলেন না, তবে গত দুই দশক ধরে ইরানের প্রকৃত ক্ষমতা তাঁর হাতেই ছিল বলে ধারণা করা হয়।
নির্বাচনী হস্তক্ষেপ: ২০০৫ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের জয়ের পেছনে মোজতবার বিশাল ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর গ্রিন মুভমেন্ট আন্দোলন দমনে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
বিপ্লবী গার্ডের সাথে সম্পর্ক: মোজতবার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ইরানের এলিট বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার প্রধান এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে। এই বাহিনীর সরাসরি সমর্থনই তাঁকে আজ সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসিয়েছে।
মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কম আসেন। তিনি খুব কমই ভাষণ দেন বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন। তিনি মূলত বাবার কার্যালয় (Office of the Supreme Leader) থেকে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধের (যেমন: হিজবুল্লাহ, হামাস) প্রধান তদারককারী ছিলেন তিনি।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি এখন তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভর করে ইরান শাসন করবেন:
ধর্মীয় বৈধতা: কোমের প্রভাবশালী আলেমদের একটি বড় অংশের সমর্থন তিনি পেয়েছেন।
সামরিক শক্তি: আইআরজিসি-র পূর্ণ আনুগত্য।
পারিবারিক উত্তরাধিকার: খামেনি পরিবারের প্রতি অনুগত বলয়।
বর্তমান সংকট ও চ্যালেঞ্জ: মোজতবা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন যখন দেশটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলছে। একদিকে বিদেশি হামলা এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘোষিত ‘হত্যার হুমকি’—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্ব এখন চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।