মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সরাসরি যুক্ত হওয়ার পথে কি পাকিস্তান? ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ (SMDA)। এই চুক্তির একটি শর্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর আক্রমণকে পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানের তৈরি একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “আমি তাদের (ইরান) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে আমাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।” মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার মুখে পাকিস্তানের এই সরাসরি অবস্থানকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধের সম্ভাব্য বিস্তার হিসেবে দেখছেন।
এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত ও উদ্বেগের বিষয় হলো পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বা পরমাণু সুরক্ষা। অভিযোগ উঠেছে যে, পাকিস্তান হয়তো অনানুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবকে পরমাণু নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কেন এই চুক্তি: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতার ও দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর সৌদি আরব বুঝতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো উপসাগরীয় দেশগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। ফলে তারা পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
আইনি জটিলতা: যদি পাকিস্তান সৌদি আরবকে পরমাণু সুরক্ষা দিয়ে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (NPT) এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তির (TPNW) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, পাকিস্তান এখনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে তারা সৌদি আরবকে ব্যাপক ‘ফায়ারপাওয়ার’ সরবরাহ করবে। যদিও চুক্তিতে ‘যৌথ ও সমন্বিত পাল্টা হামলার’ কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।