শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
আইজিপি নিশ্চিত করেছেন যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুতই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক, দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি চাঁদাবাজ ও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু পরিকল্পনা ও নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো:
চাঁদাবাজ নির্মূল: চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর অভিযান পরিচালিত হবে।
ঈদ নিরাপত্তা: পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়ক, বিপণিবিতান এবং গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার: বাহিনীতে স্বচ্ছতা ফেরাতে সিআইডিকে আরও আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া থানাগুলোতে ‘জিরো কমপ্লেইন’ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে ‘ম্যাজিস্ট্রেসি সিস্টেম’ চালুর প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
সতর্কবার্তা: কিছু সদস্যের অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইজিপি। তিনি পুলিশ সদস্যদের কোনো প্রকার অতি উৎসাহী ভূমিকা না রেখে আইন মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
জুলাই মাসের অস্থিরতায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের দায়ের করা মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সবশেষে, তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রবিরোধী বা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।